২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের



আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন ঋণ কর্মসূচি নিশ্চিত করতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট চালুর বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই সংস্কার রূপরেখার আওতায় বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করে সারাদেশে একক হার নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যাতে চাপ না পড়ে, সে উদ্দেশ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গণপরিবহনের মতো জরুরি খাতগুলোকে এই পরিকল্পনার বাইরে রাখার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং বিদেশি ঋণ সহায়তার ভিত্তি মজবুত করতে দীর্ঘদিন ধরেই বড় ধরণের সংস্কারের তাগিদ দিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ। এনবিআরের অভ্যন্তরীণ নীতি বিশ্লেষকদের মতে, কর অব্যাহতির কারণে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। তাই অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ জোরদার করতেই ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বাস্তবায়নের কৌশলগত পথনকশা তৈরি করা হচ্ছে।

এই সংস্কার প্রক্রিয়াটি একবারে চাপিয়ে না দিয়ে বরং ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার কথা ভাবছে এনবিআর। পর্যায়ক্রমে ছাড় কমানো হলে বাজারব্যবস্থা যেমন স্থিতিশীল থাকবে, তেমনই ব্যবসায়ীরাও নতুন কর কাঠামোর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাবেন।

রাজস্ব আদায় বাড়ানোর লক্ষ্য থাকলেও এনবিআরের এই পরিকল্পনা যেন মূল্যস্ফীতির বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মৌলিক খাদ্যদ্রব্যকে কোনোভাবেই এই ১৫ শতাংশ ভ্যাট কাঠামোর আওতায় আনা হবে না।

একইভাবে শিক্ষা উপকরণের দাম ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের একমাত্র মাধ্যম গণপরিবহন খাতকেও এই ভ্যাট বৃদ্ধির আওতামুক্ত রাখা হচ্ছে। এতে স্পষ্ট যে, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করেই সরকার তাদের রাজস্ব আয় বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নিয়েছে।