‘৫৬ বছরেও মেলেনি প্রত্যাশিত অর্জন’: আক্ষেপ এলজিআরডি মন্ত্রীর


‘৫৬ বছরেও মেলেনি প্রত্যাশিত অর্জন’: আক্ষেপ এলজিআরডি মন্ত্রীর

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বমানচিত্রে স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও বিগত ৫৬ বছরে বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের আর্থ-সামাজিক সীমাবদ্ধতার এই চিত্র তুলে ধরেন তিনি।


সাফল্য ও আক্ষেপের একাল-সেকাল

শুক্রবার সকালে যুব নেতৃত্ব ও উন্নয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) আয়োজিত ‘জেসিআই কার্নিভাল’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী দেশের বর্তমান পরিস্থিতির এক নির্মোহ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা একটি স্বাধীন ভূখণ্ড ও জাতিগত স্বীকৃতি অর্জন করেছি ঠিকই, কিন্তু সত্য এই যে, গত ৫৬ বছরে আমরা যতটা ভালো করতে পারতাম, তা পারিনি।”

মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সৎ স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকগুলোতে যে পরিমাণ উল্লম্ফন হওয়ার কথা ছিল, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে তা অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে।

অর্থনৈতিক সূচকের নাজুক দশা

বক্তৃতাকালে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের মাথাপিছু আয় এবং মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির মন্থর গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যা দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনমান আমূল বদলে দেওয়া সম্ভব।

দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, এখনো দেশের প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। একটি স্বাধীন দেশে এত বড় একটি জনগোষ্ঠীকে মৌলিক চাহিদার বাইরে রেখে সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।” কেবল অর্থনীতি নয়, শিক্ষার অধিকার থেকেও দেশের একটি বড় অংশ এখনো বঞ্চিত রয়েছে বলে তিনি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন।


বক্তব্যের মূল উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:

  • জাতিগত স্বীকৃতি বনাম উন্নয়ন: স্বাধীনতার ৫৬ বছর পার হলেও উন্নয়নের গতি প্রকৃতি নিয়ে অসন্তোষ।

  • দারিদ্র্যের হার: দেশের প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ এখনো দারিদ্র্যের কষাঘাতে পিষ্ট।

  • শিক্ষা ও আয়: মাথাপিছু আয় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে না পারা এবং শিক্ষার অধিকার থেকে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর বঞ্চিত থাকা।

  • খাদ্য নিরাপত্তা: নেতিবাচক দিকগুলোর মাঝেও খাদ্য ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে বড় অর্জন হিসেবে চিহ্নিত করা।

  • যুব সমাজের ভূমিকা: জেসিআই কার্নিভালে উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ হওয়ার আহ্বান।


এতসব সীমাবদ্ধতা আর আক্ষেপের মধ্যেও আশার বাণী শুনিয়েছেন এলজিআরডি মন্ত্রী। তিনি দেশের কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন খাতের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “এক সময় বাংলাদেশ যে খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত হয়েছিল, আজ আমরা সেই সংকট কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। এটি আমাদের বড় একটি সক্ষমতার জায়গা।”

এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে এবং সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে অন্যান্য সামাজিক সংকটগুলোও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ করে তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার ওপর জোর দেন তিনি।