এপ্রিলের শেষার্ধ জুড়ে আকাশে চলবে উল্কার মেলা!


এপ্রিলের শেষার্ধ জুড়ে আকাশে চলবে উল্কার মেলা!

এপ্রিলের আকাশ যেন এক বিশাল ক্যানভাস, যেখানে প্রকৃতি আঁকছে তার রহস্যময় আল্পনা, এপ্রিলের শেষার্ধ জুড়ে আকাশে চলবে উল্কার মেলা। মাসের শুরুর গ্রহ-সংযোগ আর পূর্ণিমার রেশ না কাটতেই আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বিরল এক মহাজাগতিক প্রদর্শনী। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রাতের আকাশে দেখা যাবে লাইরিড উল্কাপাত ও গ্রহদের বিশেষ অবস্থান।


আঁধার চিরে আলোর নাচন: ফিরছে লাইরিড উল্কাপাত

এপ্রিলের এই বিশেষ সময়ে মহাকাশপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে ‘লাইরিড মেটিওর শাওয়ার’ বা লাইরিড উল্কাপাত। প্রতি বছর এই সময়ে পৃথিবী যখন ‘থ্যাচার’ নামক একটি ধুমকেতুর ফেলে যাওয়া ধূলিকণার মেঘের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, তখনই এই অগ্নিবৃষ্টির সৃষ্টি হয়। আজ রাত থেকেই এর তীব্রতা বাড়তে শুরু করবে।

মহাকাশ গবেষকদের মতে, এই উল্কাপাতগুলো প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত দেখা যেতে পারে। তবে লাইরিড উল্কার বিশেষত্ব হলো এর উজ্জ্বলতা। অনেক সময় এগুলো ‘ফায়ারবল’ বা আগুনের গোলার মতো তীব্র আলো ছড়িয়ে মিলিয়ে যায়, যা খালি চোখেই স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। বাংলাদেশের আকাশে মধ্যরাতের পর থেকে ভোরের আগ পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব দিগন্তে ‘লাইরা’ নক্ষত্রমণ্ডলীর কাছাকাছি এই আলোর খেলা সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে।

গ্রহদের অবস্থান বদল: 

উল্কাপাতের পাশাপাশি এপ্রিলের এই শেষ ১০ দিন সৌরজগতের বড় বড় গ্রহগুলো তাদের কক্ষপথে বিশেষ অবস্থানে থাকবে। বৃহস্পতি, শুক্র এবং মঙ্গল গ্রহের উজ্জ্বল উপস্থিতি ভোরের আকাশে এক নান্দনিক দৃশ্যের অবতারণা করবে। বিশেষ করে শুক্র গ্রহের অতি উজ্জ্বল উপস্থিতি সাধারণ মানুষের কাছেও কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, গ্রহগুলোর এই বিশেষ সজ্জা বা ‘অ্যালাইনমেন্ট’ বিরল নয়, তবে এপ্রিলের স্বচ্ছ আকাশে এদের উজ্জ্বলতা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। টেলিস্কোপ ছাড়াই গ্রামবাংলার অন্ধকার আকাশ থেকে এই গ্রহগুলোকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। শহুরে দূষণ এড়িয়ে ছাদে বা খোলা মাঠে দাঁড়ালে এই মহাজাগতিক রূপ সহজেই উপভোগ করা যাবে।


এক নজরে মহাজাগতিক সূচি ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

এবারের আকাশ দর্শনের মূল আকর্ষণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • লাইরিড উল্কাপাতের সময়: ১৯ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে ২১ ও ২২ এপ্রিল দিবাগত রাতে এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে।

  • উৎস: ধূমকেতু সি/১৮৬১ জি১ (থ্যাচার)। এই ধুমকেতুটি প্রায় ৪১৫ বছর অন্তর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

  • গ্রহদের দৃশ্যমানতা: ভোরের আকাশে পূর্ব দিগন্তে শুক্র ও মঙ্গলের উজ্জ্বল উপস্থিতি। সন্ধ্যার পর পশ্চিম আকাশে বৃহস্পতির ঝিকিমিকি।

  • দর্শনের সেরা উপায়: কোনো কৃত্রিম আলো বা স্মার্টফোনের স্ক্রিন এড়িয়ে অন্তত ২০ মিনিট অন্ধকারে চোখ সইয়ে নিলে উল্কাপাত স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।


আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের ব্যস্ততার ভিড়ে আমরা আকাশের দিকে তাকানোর সময় পাই না। কিন্তু এপ্রিলের এই মহাজাগতিক ঘটনাগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় মহাবিশ্বের বিশালতা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরণের উল্কাপাত পর্যবেক্ষণ কেবল শখের বিষয় নয়; এর মাধ্যমে সৌরজগতের ধুলিকণা ও ধুমকেতুর গঠন প্রকৃতি সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব।