মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানিতে এখন দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ


মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানিতে এখন দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ

বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ ও বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে চীনকে পেছনে ফেলে মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থান দখল করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের ‘অটেক্সা’র সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এই চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।


বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাবে বদলেছে সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দীর্ঘকাল রাজত্ব করা চীনের আধিপত্য এখন ফিকে হয়ে আসছে। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে চলমান পাল্টা শুল্ক আরোপের লড়াইয়ের ফলে মার্কিন আমদানিকারকরা এখন চীনের বিকল্প খুঁজছেন। এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সুযোগে বাংলাদেশ নিজের অবস্থান শক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও বৈশ্বিক মন্দার কারণে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কিছুটা কমেছে, কিন্তু প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার দৌড়ে চীনকে পেছনে ফেলাকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

অটেক্সার হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বিশ্ববাজার থেকে মোট ১ হাজার ১৭৩ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আমদানির পরিমাণ প্রায় ১৩.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বাজার সংকুচিত হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার অবস্থান উন্নত করতে পেরেছে, যা দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতারই পরিচয় দেয়।

ভিয়েতনাম শীর্ষে, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দক্ষিণ এশিয়া

তালিকায় বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেও শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন বাজারে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ দ্বিতীয় হলেও ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে ইন্দোনেশিয়া ও ভারত। বর্তমানে তালিকার চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে দেশ দুটি।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র মতে, মার্কিন বাজারে চীনের হিস্যা কমে যাওয়া আমাদের জন্য বড় একটি জানালা খুলে দিয়েছে। তবে এই সুযোগ দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে আমাদের পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং উচ্চমূল্যের পোশাক তৈরির দিকে আরও মনোযোগী হতে হবে। কেবল সাধারণ টি-শার্ট বা ডেনিমের ওপর নির্ভর করে এই শীর্ষস্থান ধরে রাখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।


এক নজরে মার্কিন বাজারের হালচাল:

  • বাংলাদেশের অবস্থান: চীনকে টপকে বর্তমানে দ্বিতীয় শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক।

  • শীর্ষ দেশ: মার্কিন বাজারে রপ্তানিতে এখনো প্রথম স্থানে রয়েছে ভিয়েতনাম

  • রপ্তানি চিত্র: বাংলাদেশের নিজস্ব রপ্তানি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

  • আমদানির ধরণ: যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক আমদানি গত বছরের তুলনায় ১৩.৫ শতাংশ কমেছে।

  • অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী: চতুর্থ স্থানে ইন্দোনেশিয়া এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভারত


আগামীর চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি পরিমাণে কমলেও বাজার হিস্যায় (Market Share) উন্নতি হয়েছে। রপ্তানি প্রায় ৮.৫ শতাংশ কমার পরেও দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসার মূল কারণ হলো—চীনের রপ্তানি বাংলাদেশের চেয়েও ভয়াবহ হারে কমেছে। এটি একটি সংকেত যে, বিশ্ববাজারের অস্থিরতায় সবাই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত, কিন্তু বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে বেশি ‘রেজিলিয়েন্ট’ বা সহনশীল।

তবে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। জ্বালানি সংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং বন্দরে লজিস্টিক জটিলতা নিরসন না করলে এই অর্জন হাতছাড়া হতে পারে। বিশেষ করে ভারত ও ভিয়েতনাম যেভাবে আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে, তাতে বাংলাদেশকে টিকে থাকতে হলে সবুজ শিল্পায়ন (Green Transformation) এবং কৃত্রিম তন্তুর (Man-made Fiber) পোশাকে আরও জোর দিতে হবে।