অস্ত্রে কে এগিয়ে?


india pakistan

দক্ষিণ এশিয়ার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ পাকিস্তান-ভারত। উভয়েরই আছে পারমাণবিক অস্ত্র। এসব অস্ত্র ভয়াবহ আঘাত হানতে পারে।

ভারতের হাতে আছে অগ্নি-৩, ব্রহ্মাসহ ৯ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলোর পাল্লা ৩ থেকে ৫ হাজার কিলোমিটার।

অন্যদিকে পাকিস্তানের হাতে আছে শাহিন-২ ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটার। এ ছাড়া আছে ১৪০ থেকে ১৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড। ভারতের হাতে আছে এমন ১৩০ থেকে ১৪০টি অস্ত্র।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক বাজেট, পারমাণবিক সক্ষমতা, সামরিক, বিমান ও নৌবাহিনীর তুলনামূলক একটি চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।

তিন বাহিনী:

সেনাবাহিনী;

আইআইএসএসের তথ্যমতে,ভারতের সামরিক বাহিনী আছে ১২ লাখ সদস্য। যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েনযোগ্য ৩ হাজার ৫৬৫টির বেশি ট্যাংক, ৩ হাজার ১০০টি পদাতিক বাহিনীর যুদ্ধযান, ৩৩৬টি সশস্ত্র বাহিনীর যান এবং কামান আছে ৯ হাজার ৭১৯টি।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সদস্য ৫ লাখ ৬০ হাজার। ট্যাংক ২ হাজার ৪৯৬টি, সশস্ত্র পরিবহন যান ১ হাজার ৬০৫টি এবং আর্টিলারি বন্দুক ৪ হাজার ৪৭২টি।  

সম্প্রতি আইআইএসএস  এ-এর প্রতিবেদনে বলা হয় ভারতের কাছে সেনাসদস্য বেশি থাকা সত্ত্বেও তাদের সক্ষমতা কম। কারণ, তাদের পর্যাপ্ত লজিস্টিক, রক্ষণাবেক্ষণ, গোলাবারুদ ও খুচরা যন্ত্রাংশের ঘাটতি রয়েছে।

বিমানবাহিনী;

ভারতের বিমানবাহিনীর সদস্য ১ লাখ ২৭ হাজার ২০০। যুদ্ধবিমান ৮১৪টি। ভারতের বিমানবাহিনী উল্লেখযোগ্যভাবে বড়, তবে দেশটির যুদ্ধবিমানের বহর নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

ভারতীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, তাদের বিমানবাহিনীতে আছে রাশিয়ার পুরোনো জেট। যেমন মিগ-২১। এগুলো ১৯৬০-এর দশকে প্রথম ব্যবহৃত হয়েছিল। এসব জেট বিমান শিগগিরই সরিয়ে ফেলা হবে। অন্যদিকে ২০৩২ সাল নাগাদ ভারতের হাতে আসতে পারে ২২টি স্কোয়াড্রন।

পাকিস্তানের হাতে আছে ৪২৫টি যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে রয়েছে চীনা প্রযুক্তির এফ-৭ পিজি এবং আমেরিকান এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন জেট।

আইআইএসএস ২০১৯ সালের এক মূল্যায়নে বলেছে, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে।

নৌবাহিনী;

ভারতের নৌবাহিনীর আছে একটি বিমানবাহী রণতরি। আছে ১৬টি ডুবোজাহাজ, ১৪টি ডেস্ট্রয়ার, ১৩টি ফ্রিগেট, ১০৬টি টহল ও উপকূলীয় যুদ্ধযান এবং যুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য ৭৫টি বিমান। তা ছাড়া ভারতের নৌবাহিনীতে আছে ৬৭ হাজার ৭০০ সদস্য।

তবে পাকিস্তানের উপকূলভাগ ভারতের চেয়ে কম। তাদের এ জন্য অস্ত্রের পরিমাণও অত বেশি নয়। তাদের কাছে আছে ৯টি ফ্রিগেট, ৮টি ডুবোজাহাজ, ১৭টি টহল ও উপকূলীয় যুদ্ধযান এবং ৮টি যুদ্ধে ব্যবহারযোগ্য জাহাজ।

ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্র:

ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্যমতে, ৯ ধরনের অপারেশনাল ক্ষেপণাস্ত্র আছে ভারতের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হলো অগ্নি-৩। এর পাল্লা ৩০০০ কিলোমিটার থেকে ৫০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

সিএসআইএস বলছে,পাকিস্তানের মোবাইল শর্ট এবং মধ্যম পাল্লার অস্ত্র আছে। যা কিনা ভারতের যেকোনো স্থানে হামলা চালাতে সক্ষম। পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হলো শাহিন-২।এটি দুই হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

এসআইপিআরআইয়ের তথ্য অনুসারে, পাকিস্তানের ১৪০ থেকে ১৫০টি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র আছে। অন্যদিকে ভারতের আছে ১৩০ থেকে ১৪০টি।

সামরিক বাজেট:

দেশটির জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ পরিমাণ অর্থ ভারত সামরিক খাতে খরচ করে। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) সর্বশেষ তথ্য অনুসারে,ভারতের সেনাসদস্য সংখ্যা  ১৪ লাখ। ২০১৮ সালে ভারত সামরিক খাতে বরাদ্দ করেছিল চার ট্রিলিয়ন রুপি (৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।

পাকিস্তান জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ সামরিক খাতে খরচ করে। দেশের ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ সেনাসদস্যের জন্য গত বছর ১ দশমিক ২৬ ট্রিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি (১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বাজেট বরাদ্দ করেছিল দেশটি। এ ছাড়া ২০১৮ সালে ইসলামাবাদ ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি সামরিক সহায়তা পেয়েছে।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, ১৯৯৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের বার্ষিক সরকারি ব্যয়ের ২০ ভাগের বেশি সামরিক খাতে ব্যয় হতো।২০১৭ সালে সরকারি খাতের শতকরা ১৬.৭ ভাগ খরচ হয়েছে সামরিক খাতে।

এদিকে তুলনামূলকভাবে ২০১৮ সালে ভারতে সামরিক খাতে সরকারি খরচের পরিমাণ শতকরা ১২ ভাগের নিচে রয়েছে। ২০১৭ সালে তা ছিল শতকরা ৯.১ ভাগ।