দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ট্রেড লাইসেন্স সহজীকরণের ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, ব্যবসা পরিচালনা ও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য এবং প্রশাসনিক হয়রানি দূর করতে শিগগিরই একটি একক সমন্বিত ডিজিটাল পোর্টাল চালু করা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সম্প্রতি দেশে বিনিয়োগ ও নতুন ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতা দূর করার তাগিদ দেন। ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ রোধে কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, লাইসেন্স অনুমোদন থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন—সব ক্ষেত্রে সুশাসন না এলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যবসার জন্য অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা দূর না করতে পারলে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি মিলবে না। বিশেষ করে জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতায় ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই নতুন পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় জোর দেওয়া হচ্ছে ডিজিটালাইজেশনের ওপর। একটিমাত্র কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্মে আবেদন জমা দিয়ে দ্রুততম সময়ে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে যেন সনদ পাওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই কাজ এগোচ্ছে।
প্রথাগত কাগজের ফাইলিং ব্যবস্থার বদলে এই প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু হলে মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন বা নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সময় ও বিপুল পরিমাণ বাড়তি অর্থের অপচয় রোধ পাবে।
বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে একাধিক সংস্থার পৃথক পরিদর্শন ব্যবস্থার কারণে নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। একই প্রতিষ্ঠানে বারবার বিভিন্ন দপ্তরের হানা বন্ধে যৌথ পরিদর্শনের একটি সাধারণ কাঠামো রূপায়ণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মাধ্যমে সব সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা নির্ধারিত সময়ে একত্রে সমন্বিত পর্যবেক্ষণ চালাবেন। এতে করে ব্যবসায়িক দৈনন্দিন কাজের গতি রক্ষা পাবে এবং পরিদর্শকদের অসদুপায় অবলম্বনের পথও সংকুচিত হবে।

