আগামী বছর বাড়তে পারে বিমান ও হোটেল ভাড়া



তেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম ২০১৯ সালে উড়োজাহাজ ভ্রমণ ব্যয় বাড়িয়ে তুলবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। আগামী বছর উড়োজাহাজ ভাড়া ২ দশমিক ৬ ও হোটেল ভাড়া ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়তে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তবে বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে মন্দার ঝুঁকিও বহাল রয়েছে বলে আকাশসেবা শিল্পের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
গতকাল প্যারিসভিত্তিক ট্রাভেল কোম্পানি কার্লসন ওয়াগন ট্রাভেল (সিডব্লিউটি) এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্লোবাল বিজনেস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (জিবিটিএ) বার্ষিক ব্যবসায়িক ভ্রমণ পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে।

পূর্বাভাস অনুসারে, আগামী বছর ভারত, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, জার্মানি ও চিলিসহ বেশকিছু দেশে বিমান ভাড়া ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিডব্লিউটির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈশ্বিক বিক্রি ও কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল ভলকেভিচ বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্ষেত্রে আমরা তিন-চার বছরের একটি পর্যায়কাল পার হয়েছি, যখন ধারণক্ষমতা ছিল অনেক বেশি আর ভাড়া ছিল উল্লেখযোগ্য হারে কম। এখন কিছুটা টেকসই ভাড়া পাব বলে আশা করছি।

এর আগে জুনে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন যাত্রী বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়। শক্তিশালী বৈশ্বিক অর্থনীতির কারণে চাহিদা বাড়ায় চলতি বছর বিমানভাড়া ৩ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস হয়েছে, যা ২০১১ সালের পর প্রথম। এছাড়া গত বছর প্রকাশিত প্রতিবেদনে সিডব্লিউটি/জিবিটিএ চলতি বছর ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বিমান ভাড়া বৃদ্ধির পূর্বাভাস করেছিল।

এদিকে জ্বালানি ও শ্রমসহ আকাশসেবার ব্যয় ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুনাফা ধরে রাখতে নেতৃস্থানীয় আকাশসেবা সংস্থাগুলো ভাড়া বৃদ্ধি বা জ্বালানি সারচার্জ যোগ করা শুরু করেছে।

সিডব্লিউটি/জিবিটিএর ২০১৯ সালের পূর্বাভাস অনুসারে, উড়োজাহাজ ভ্রমণের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় হোটেল ভাড়াও বাড়তে পারে। ভ্রমণ বৃদ্ধি পেলে হোটেলগুলোর কক্ষের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে। এশিয়া ও ইউরোপ অঞ্চলে কক্ষ ভাড়া ৫ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া উত্তর আমেরিকায় ২ দশমিক ১ শতাংশ ভাড়া বাড়লেও লাতিন আমেরিকায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ পতন দেখা যেতে পারে।

চলতি বছর ফ্রান্সের অ্যাকোর ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যারিয়ট ইন্টারন্যাশনালসহ হোটেল গ্রুপগুলো এশিয়া ও ইউরোপে কক্ষপ্রতি আয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির কথা জানিয়েছে।