আমাজান ক্লাউডে বাংলাদেশের শামীম



বিশ্বের আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে বর্তমানে ক্লাউড কম্পিউটিং এর এক নীরব বিপ্লব চলছে। বলা হচ্ছে এন্টারপ্রাইজ আইটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন চলছে যা হল ক্লাউড মাস মাইগ্রেশন বা ক্লাউড কাম্পিউটিং এ গণস্থানান্তর।
সেই ক্লাউড কম্পিউটিং এ যেসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নেতৃত্বে তাদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে আমাজন ওয়েব সার্ভিসেস। আমাজন হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তাদের আইটি এবং ক্লাউড কম্পিউটিং ডিভিশন, আমাজন ওয়েব সার্ভিসেস বা AWS এখন তাদের সবচেয়ে লাভজনক অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। আমাজন বা AWS এ কাজ করেন পৃথিবীর বিখ্যাত সব কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার আর আইটি প্রফেশনালরা। আজকে আমরা এমনই একজনের গল্প বলবো যে এই বাংলাদেশেরই ছেলে, সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন আমাজনে, ক্লাউড কম্পিউটিং, বিগডেটা, মেশিনলার্নিং সহ আধুনিক সব টেকনোলজি নিয়ে।
শামীম আশরাফী ২০০৮ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্টে পাড়ি দিয়ে দিয়েছিলেন আইটি জব নিয়েই। তখন তিনি কাজ করতেন ওরাকল ডেটাবেইজ টেকনোলজিতে। বাংলালিংকের ডাটাবেইজ এডমিনিস্ট্রেটর হিসাবে কাজ করার সময় তিনি H1B ভিসায় সরাসরি চাকরি নিয়ে যুক্তরাষ্টে চলে যান। যুক্তরাষ্টের বিখ্যাত টেলিকম কোম্পানি ভেরাইজন সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন ডেটাবেইজ আর বিগডেটা নিয়ে। তারপর যোগ দিয়েছেন এখনকার বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান আমাজানের ক্লাউড কম্পিউটিং ডিভিশন AWS এর একজন বিগডেটা কন্সাল্ট্যান্ট হিসাবে। তার কাজ আমেরিকার বিভিন্ন কোম্পানির আইটিকে ক্লাউড কম্পিউটিং এ স্থানান্তর এবং বিগডেটা এনালাইসিসে সাহায্য করা।
আজকের গ্লোবাল লেভেলে সফল আইটি প্রফেশনাল শামীম আশরাফীর শুরুটা ছিল একটু অন্য রকম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃবিজ্ঞানে গ্রাজুয়েশান করে প্রথম চাকরি শুরু করেছিলেন ICDDR,B তে। কিন্তু স্বপ্ন যেহেতু ছিল আইটি সেক্টর এ কিছু করার, তাই কম্পিউটার নিয়ে পড়াশুনা আর বিভিন্ন আইটি কোর্স শুরু করেন। পাশাপাশি সদ্য শুরু হওয়া আইডিবির স্কলারশিপও পেয়ে যান এবং সুযোগ হয় ওরাকল ডেটাবেইজ টেকনোলোজি শেখার। তারপর কাজ করেন ওরাকল এর বাংলাদেশী সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেইজ লিমিটেডে। সেখান থেকে যোগ দেন তখনকার উদীয়মান টেলিকম বাংলালিংকে।
আইটি প্রফেশনাল হিসাবে চাকরির পাশাপাশি শামীম একজন আইটি উদ্যোক্তা হিসাবেও ভূমিকা রেখেছেন। যুক্তরাষ্টে যাওয়ার আগে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অদ্বিতীয় টেকনোলজিস নামের একটি আইটি কোম্পানি। আমেরিকার বিভিন্ন স্টার্টআপের টেকনোলোজি মেন্টর হিসাবে সাহায্য করেন তিনি। কি-নোট স্পিকার, ট্রেইনার বা জাজ হিসাবেও কাজ করেন বিভিন্ন স্টার্টআপ কম্পিটিশান ও হ্যাকাথনে। এছাড়াও বিদেশে বসে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ক্লাউড কম্পিউটিং, বিগডেটা, আইওটি, মেশিন লার্নিং, ব্লকচেইন ইত্যাদি আধুনিক প্রযুক্তির উপর মেন্টরিং এবং প্রশিক্ষণ দেন।
এক সন্তানের পিতা শামীম এখন থাকেন আমেরিকার টেক্সাস রাজ্যের ডালাস শহরে। তার সহধর্মিনী ফাতিমা সাইয়েদা ও একজন আইটি প্রফেশনাল এবং কাজ করেন ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস ডালাসে। কাজের পাশাপাশি তারা ডালাসের বাংলদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আর দাতব্য কাজেও জড়িত। ইচ্ছা আছে বাংলাদেশের আইটিতে ক্লাউড কম্পিউটিং, বিগডেটা নিয়ে আরো কাজ করার এবং নলেজ রেমিট্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার।