এই আস্তরণ থাকলে ঘর পরিষ্কার করতে হবে না


clean coat

ক্লিনকোট প্রযুক্তিতে ঘরে স্বচ্ছ, গন্ধহীন একটি কোট থাকে। সূর্যালোক পড়লেই যা থেকে অ্যান্টিব্যাক্টিরিয়াল স্প্রে বেরিয়ে টাইফয়েড, ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদির ক্ষতিকর জীবাণুকে মেরে ফেলে।

এমনই ব্যবস্থাই রয়েছে কোপেনহেগেনের হোটেল ‘অট্টিলিয়ায়’।বিলাসবহুল চকচকে হোটেল, ঘরদোরে যে একটুও ধুলোবালি নেই।অথচ মজার বিষয় পরিষ্কার-পরিছন্নের জন্য কোনো কর্মীর প্রয়োজন হয় না।

ডেনমার্কের সংস্থা এসিটির সঙ্গে যৌথ ভাবে হোটেলের ঘরগুলি তৈরি করেছেন কর্তৃপক্ষ। ১৫৫টি ঘরবিশিষ্ট এই হোটেলে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য বেশ কয়েক দিন ঘরগুলি একেবারে ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছিল। সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই রাসায়নিকে জীবাণু নাশক হলেও মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। সংস্থার দাবি, এক বছর ধরে এই আস্তরণ থাকলে ঘরে কোনও সাফাইকর্মীরই প্রয়োজন হয় না। প্রায় দু’বছর ধরে ডেনমার্কের ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টারে এটি পরীক্ষা করা হয়েছে, জানান করিম নিয়েলসন নামে এক আধিকারিক। এই প্রযুক্তিকে তিনি টেফলনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে পরিষ্কার কি একেবারেই করতে হয় না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কর্মীরা দিনে একবার ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করে। তবে ধুলো ঝাড়া, ঘর মোছা যাকে বলেন, তার কোনও প্রয়োজন পড়ে না। সেই কাজটাই করে ওই ক্লিনকোট।’

সংস্থাটি জানিয়েছে, টাইটেনিয়াম ডাই অক্সাইড নামে একটি রাসায়নিক থাকাতেই এটা সম্ভব হচ্ছে। ডেনমার্ক, জার্মানি, তাইওয়ানের মতো দেশ এই প্রযুক্তিকে ইতিমধ্যেই মান্যতা দিয়েছে।

সূর্যালোক পড়লেই ফটো ক্যাটালিসিস পদ্ধতিতে ইলেকট্রন হোল পেয়ার তৈরি হয়, যেগুলি বাতাসের আর্দ্রতাকে ফ্রি র্যা ডিকালে পরিণত করে। এই আস্তরণই ক্ষতিকারক স্ট্যাফাইলোকক্কাস, ই কোলাই ব্যাক্টিরিয়া, ভাইরাস, উদ্বায়ী জৈব পদার্থ-সহ অন্য ক্ষতিকারক অণুজীবকে নিমেষে দূর করে।

তবে এজন্য চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে যারা থাকছেন তাদেরও। ক্লিনকোট প্রযুক্তি ব্যবহার করায় প্রতিটি ঘরের প্রতি রাতের ভাড়া প্রায় এক লক্ষ আশি হাজার টাকা। তবে থাকার জন্য নয় বরং দেখার জন্য কোপেনহেগেনের এই হোটেল বিদেশি পর্যটকদের কাছে নয়া আকর্ষণ।