এভাবেই কি ঘুরে দাঁড়ানো?



ভারতের মাতিতে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ দলের করুণ অবস্থার চিত্রটা বেশ পুরোনো নয়। এখনো ক্ষত-বিক্ষত সেই দিবারাত্রির টেস্ট কিংবা পুরো সিরিজে সাদা পোশাকের বাংলাদেশের ভগ্নদশা হতাশা বাড়িয়েছে, জন্ম দিয়েছে আক্ষেপের।

সেই ক্ষতের উপর প্রলেপ দেওয়ার কাজটা করেছে পাকিস্তান। যেন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা! পুরো সিরিজ জুড়ে ব্যর্থ বাংলাদেশের আক্ষেপের গল্পটা বদলায়নি। দায়িত্ব নিয়ে লড়াই করতে পারেনি কেউই। ভারত সিরিজে কেবল মুশফিক একটু প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও পাকিস্তান সিরিজে সেই চেষ্টাও দেখা যায়নি কারো কাছ থেকে।

এ তো বিগত দুই সিরিজের গল্প। শেষ ছয় টেস্টের সবকটিতে হেরেছে বাংলাদেশ। যার পাঁচটিতে হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। আফগানিস্তানের কাছে ঘরের মাঠেও হেরেছে লাল-সবুজের দলটি।

হতাশা, ব্যর্থতা, আক্ষেপের গল্প লিখে এমন বাংলাদেশকে চায় না এদেশের ক্রিকেটকে ভালোবাসা কোটি কোটি ভক্ত। তাদের ভালোবাসার দলটি যে একটু একটু করে পিছিয়ে পড়ছে, আলোর আড়ালে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের গভীর সাগরে – মেনে নেওয়া যায় কি?

এরই মধ্যে এসেছে জিম্বাবুয়ে। নিন্দুকেরা বলেন, জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের বিপদের বন্ধু। হ্যা, বিপদের বন্ধুই বটে! বাংলাদেশের সাথে টেস্ট খেলতে যখন বিশ্বজুড়ে বড় বড় দেশের অনিহা কাজ ক্রত, এই জিম্বাবুয়েই তখন বাংলাদেশে এসে ঘুরে যেতো, খেলে যেতো।

তবে, এক্ষেত্রে উপহাসের কারণটা অন্য। যখনই খারাপ সময় পার হতে থাকে বা হারের বৃত্তে থেকে ঘুরপাক খেতে থাকে, তখনই জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আসা হয়। জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে বাংলাদেশ জানান দেয়, তারা জিততে ভুলে যায় নি।

বড় দলগুলোর সাথে পেরে না উঠে জিম্বাবুয়েকে দিয়েই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় অতীতের সমস্ত ব্যর্থতা ধামাচাপা দিয়েই বারবার এগিয়ে যেতে হয়।

শেষ ছয় টেস্টের কোনোটিতে জিততে পারেনি বাংলাদেশ। পাঁচটিতেই হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। ছিল না কোনো সেঞ্চুরি। ব্যর্থতার মিশেলে হারিয়ে যেতে বসা ২০ বছর ধরে টেস্ট অঙ্গনে থাকা বাংলাদেশ অবশেষে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। কিছুদিন আগে এই জিম্বাবুয়ে আন্ত্রজাতিক ক্রিকেট সংস্থা দ্বারা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছিল।

এভাবে আর কতো? নিউজিল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা এমনকি আফগানিস্তানের সাথে সাদা পোশাকে হেরে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে উল্লাস চলবে কতদিন? মন ভোলানো বিজয়ে কি এখন আর মন ভরে?

২০ বছর ধরে টেস্ট আঙিনায় চলতে থাকা শিক্ষানবিশ বাংলাদেশের পূর্ণ পাঠ শেষ হবে কবে? যার উত্তর এখনো অজানা।