গরুর দুধের চেয়েও পুষ্টিকর তেলাপোকার দুধ!



দুধে পুষ্টি আছে, তাই রোজ সকালে মা জোর করে এক গ্লাস দুধ নিয়ে ছোটাছুটি শুরু করে। এই দুধ হয় গরুর, কখনো মহিষ, ছাগল, ভেড়ার দুধও খাওয়া হয়েছে। কিন্তু তেলাপোকারও দুধ আছে, এমন কথা শুনেছেন কখনো?

এক্সসিএলআই (EXCLI) জার্নালে প্রকাশিত সমীক্ষা অনুযায়ী, তেলাপোকার দুধ গরুর দুধের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি পুষ্টিকর। ওয়ি  দুধ খাইয়ে তেলাপোকারা তাদের বাচ্চাদের বড় করে তোলে।

‘জার্নাল অব ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব ক্রিস্টালোগ্রাফি’-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয় যে, স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো তেলাপোকাও দুধ দেয়। এই আবিষ্কার রীতিমতো চমকে দিয়েছিল গোটা বিশ্বকে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এক ধরণের বিশেষ প্রজাতির তেলাপোকা রয়েছে যারা ডিম পাড়ে না। স্তন্যপায়ীদের মতই তারা সরাসরি জন্ম দেয় বাচ্চা। আবার বাচ্চাদের দুধও পান করায়। সমস্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীর দুধের চেয়ে চারগুণ বেশি পুষ্টি পাওয়া যায় এই তেলাপোকার দুধে। তবে এ ধরনের তেলাপোকা পাওয়া যায় একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে।

এই প্রজাতির তেলাপোকে ‘ডিপলোপ্‌টোরা পাঙ্কটেটা’ বলা হয়। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের সঙ্গে এদের পার্থক্য একটাই, স্তন্যপায়ী প্রাণীদের শরীরে দুধের জন্ম হয় সন্তান ভূমিষ্ঠের পর। আর এদের শরীরে দুধের জম্ম হয় ‘ব্রুড স্যাক’-এ ডিমগুলো জমা হওয়ার পর অর্থাৎ ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মানব শরীরে অবস্থিত ইউটেরাসের মতোই তেলাপোকার শরীরে থাকে ‘ব্রুড স্যাক’, যেখানে ডিমগুলো জমা হয়। জমা হওয়ার ২০ থেকে ২৫ দিন পর ভ্রুণগুলোর মধ্যে দুধের ক্ষরণ হতে থাকে। আর জমা হওয়া ডিমগুলো তখনই সেই দুধ খেতে শুরু করে।

দুধের সঙ্গে ডিপলোপ্‌টোরা পাঙ্কটেটা বা পেসিফিক বিটল প্রজাতির তেলাপোকা মিশিয়ে খেলে মানুষের শরীরে দারুণ উপকার হতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের মত।

এই প্রকার তেলাপোকার দুধে রয়েছে ৯টি প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড। তেলাপোকা দুধকে ভবিষ্যতের সবচেয়ে উপযোগী সুপারফুড হিসেবে গণ্য করছেন বিজ্ঞানীরা।

পুষ্টিবিজ্ঞানী ইগজোনা মাকোল্লিক জানিয়েছেন, এই তেলাপোকার দুধ হলো একটি প্রোটিন ক্রিস্টাল ধরনের দুধ, যেখানে ভালো পরিমাণে শক্তি রয়েছে। এ ছাড়া এই দুধে প্রচুর পরিমাণে অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়।

তিনি আরো জানান, ২০১৬ সালে ভারতের গবেষকরা এ ধরনের দুধ থেকে পুষ্টিগুণ শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।