ঘরকে দূষণমুক্ত রাখবে যে গাছগুলো



ইট পাথরের শহরে চোখ খোজে সবুজ। যান্ত্রিক এই শহরে কোথায় পাবেন সেই কাঙ্খিত সবুজের দেখা। তবে নিজের ঘরেই যদি মেলে কিছুটা সবুজ তাহলে মন্দ হয়না। আর সেই গাছগুলো যদি আপনার মনের সাথে সাথে ভালো করে ঘরের পরিবেশকে তাহলে তো ষোলকলা পূর্ন।
আজ এরকম কিছু গাছের কথাই জানবো আমরা। এই গাছগুলো ঘরের অল্প আলোতে বেঁচে থেকে পরিস্কার রাখবে আপনার ঘরের বাতাসকে।

চাইনিজ এভারগ্রিন– নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে এটির উৎপত্তি চিনে। সে দেশে এটি খুব জনপ্রিয়ও। বাতাসকে দূষণ মুক্ত করে, বাতাসকে বিভিন্ন ক্ষতিকারক পদার্থ মুক্ত করে। কিন্তু একে লালন পালনের জন্য খুব বেশী যত্নের প্রয়োজন হয় না। ছায়াতে ভাল থাকে এরা। তবে খেয়াল রাখতে হয় যেন টবের মাটি ভিজে থাকে।

জারবেরা ডেইজি- বাগানের সৌন্দর্যায়নের জন্য জারবেরা একটি অনন্য নাম। কিন্তু এর বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন উৎপাদন ক্ষমতা এবং বাতাস থেকে দূষিত কণা দূর করার ক্ষমতা সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা নেই। তবে এর জন্য শীতকাল ছাড়া সারা বছরই পর্যাপ্ত সূর্যরশ্মি প্রয়োজন হয়। ভাল করে জল দিতে হয়, যাতে মাটি সব সময় ভিজে থাকে। শোওয়ার ঘর এই গাছ রাখার আদর্শ জায়গা।

এরিকা পাম- বাতাসকে শুদ্ধ করার ব্যাপারে এই ইন্ডোর প্লান্টটির কথা যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। এটিকে প্রকৃতি যেন বিশেষ ভাবে তৈরিই করেছে বাতাস পরিশুদ্ধ করার জন্য। এটি বসার ঘরে রাখার পক্ষে একেবারে আদর্শ একটি গাছ। অল্প আলো এবং মাঝে মধ্যে জল দেওয়া ছাড়া বিশেষ যত্নের দরকার পড়ে না।

মানি প্ল্যান্ট- এটি বাংলার ঘরে ঘরে পরিচিত একটি নাম। তবে সেটা এর কার্যকারিতা সম্পর্কে যতটা, তাঁর থেকেও বেশী এর নামের জন্য। এর বাতাস শোধনের ক্ষমতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে নাসাও। আলো পড়ে না, এমন যে কোনও ঘরে একে রাখা যেতে পারে। সপ্তাহে একবার জল দিলেই যথেষ্ট।

স্নেক প্লান্ট- এই গাছটিও বাতাসে অক্সিজেন যোগ করে বিভিন্ন দূষিত পদার্থ দূর করে। এর আরও বিশেষত্ব হল, এটি রাতেও ক্রমাগত বাতাসে অক্সিজেনের যোগান দিয়ে যায়। বদ্ধ ঘরের ক্ষেত্রে এটি একটি আদর্শ গাছ। একে রাখার সবচেয়ে ভাল জায়গা হল শোওয়ার ঘর। জানালার অল্প আলো এবং সপ্তাহে একদিন জল, এদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন হয়।