চিকিৎসা পেশায় পুরুষদের ছাড়িয়ে গেছেন নারীরা



দেশ চালনা থেকে শুরু করে ফসলের মাঠ; সর্বত্রই রয়েছে নারীদের পদচারণা। প্রায় সব পেশাতেই রয়েছে নারীদের সমান অংশগ্রহন। কিছুক্ষেত্রে পুরুষদের ছাড়িয়ে গেছেন একসময়ে নেপথ্যে থেকে পুরুষদের অনুপ্রেরণা যোগানো নারীরা। এরকমই একটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চিকিৎসা খাত। চলতি শিক্ষাবর্ষে ২২০ জন শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩৬ জন ছাত্রী, ছাত্র মাত্র ৮৪ জন। আবার ১০ বছরে পুরুষের তুলনায় এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনকারী নারীর সংখ্যাও প্রায় ৩ হাজার বেশি। শুধু ঢাকা মেডিকেল নয়; এ বছর মেডিকেল কলেজগুলোতে ১০ হাজার ২২৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের প্রায় ৬০ শতাংশ ছাত্রী, ছাত্র ৪০ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১০ বছরে (২০০৭-১৬ সাল) মেডিকেল কলেজগুলো থেকে মোট ৩৯ হাজার ২৮৫ জন বাংলাদেশি এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়ে বের হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ২১ হাজার ১২৩ জন এবং ছাত্রী ১৮ হাজার ১৬২ জন। অর্থাৎ এই সময়ে পুরুষের চেয়ে ২ হাজার ৯৬১ জন বেশি নারী চিকিৎসক ডিগ্রি নিয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, আগামী বছরগুলোতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬-২৭ সাল নাগাদ প্রতিবছর পুরুষ চিকিৎসকের দ্বিগুণ নারী চিকিৎসক ডিগ্রি নেবেন। এদিকে গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা শীর্ষ ১০ জন শিক্ষার্থীর ৮ জন ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ওই আটজনের সাতজনই ছাত্রী। এই ধারা বেশ কয়েক বছর চলছে। ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবির) গবেষণা বলছে, এমবিবিএস পাস করা ৯১ শতাংশ নারী চিকিৎসক স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যায় উচ্চতর ডিগ্রি নিতে আগ্রহী। এবিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, মেধার জোরেই মেয়েরা সংখ্যায় বেশি ভর্তি হচ্ছে, বেশি পাস করছে। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে জাতীয় মেধাক্রম তৈরি হচ্ছে। এতে ছাত্রীদের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজকে দেশের সেরা মেডিকেল কলেজ বিবেচনা করা হয়। মেধাতালিকার শীর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হয়। ভর্তি হওয়া ছাত্রের সংখ্যা ছাত্রীদের প্রায় অর্ধেক এখন।