চ্যাম্পিয়ন টেরিফিক হিটার্স, রানার্সআপ ক্রিক ফাইটার্স



ক্রিকেট প্রেমী বাঙালিদের মধ্যে ক্রিকেট নিয়ে আবেগ উত্তেজনার অন্ত নেই। এই উত্তেজনায় বিভিন্ন জায়গায় ছোট বড় অনেক টুর্নামেন্টই অনুষ্ঠিত হয়। টেপ টেনিসের এসব টুর্নামেন্ট বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে এলাকাবাসীদের জন্য।

তেমনি ঢাকার টিকাটুলীতে কে. এম. দাস লেনের ছোট্ট একটি গলিতে হয়ে গিয়েছে তেমনি এক টুর্নামেন্ট। যেখানে শেষ বলের লড়াইয়ে জিতেছে টেরিফিক হিটার্স এবং রানার্সআপ ক্রিক ফাইটার্স। এক দিনের এ টুর্নামেন্টের প্রতিটি মুহূর্তে মুহূর্তে ছিল উত্তেজনা। চার দলের এই টুর্নামেন্টে সাকিবের দল ক্রিক ফাইটার্স, অপুর টেরিফিক হিটার্স, রাসেলের চ্যালেঞ্জিং অলরাউন্ডার্স ও জিসানের টিকাটুলী হারিকেনস একে অপরের সাথে লড়াই করে। ১৪ ম্যাচের লড়াই শেষে অধিনায়ক অপুর অসাধারণ ক্যাপ্টেন্সিতে শিরোপা উঁচিয়ে টেরিফিক হিটার্স এবং শেষ বলের লড়াইয়ে হেরে রানার্সআপ হয় সাকিবের ক্রিক ফাইটার্স।

গত পহেলা ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল দশটায় শুরু হওয়া এ টুর্নামেন্টে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় টিকাটুলী হারিকেনস ও ক্রিক ফাইটার্স। টসে জিতে ফিল্ডিং বেছে নেওয়া ক্রিক ফাইটার্সের বিপক্ষে ব্যাট করে নির্ধারিত ৬ ওভারে অধিনায়ক জিসানের ১৯ রানে ভর করে ২৪ রান তোলে টিকাটুলী হারিকেনস। জবাবে ৩ বল হাতে রেখে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় ক্রিক ফাইটার্স। জুয়েল সর্বোচ্চ ১৯ রান করে। অপর ম্যাচে টুর্নামেন্টের আন্ডার ডগ টেরিফিক হিটার্স চ্যালেঞ্জিং অলরাউন্ডার্সের বিপক্ষে সহজ জয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে। চ্যালেঞ্জিং অলরাউন্ডার্সের দেওয়া ২২ রানের টার্গেট ২.৩ বল আগেই পার করে টেরিফিক হিটার্স।

জমজমাট দ্বিতীয় রাউন্ডের দুটি ম্যাচই ড্র হয়। প্রথম ম্যাচে পরাজিত চ্যালেঞ্জিং অলরাউন্ডার্স ক্রিক ফাইটার্সকে মাত্র ১৯ রানের লক্ষ্য দিলেই সে বাঁধা পেরোনো সম্ভব হয়নি, অপরদিকে টিকাটুলী হারিকেনস নির্ধারিত ৬ ওভারে ২০ রান তুলেও রুখে দেয় টেরিফিক হিটার্সকে।

তৃতীয় রাউন্ডে টেরিফিক হিটার্সকে বিপক্ষে মাত্র এক উইকেট হারিয়ে ৬ ওভারে ৩৩ রান করে ক্রিক ফাইটার্স। জুয়েল সর্বোচ্চ ১৭ ও দিপু ১৬ রান করে। জবাবে দিপুর ২ উইকেটে মাত্র ২১ রানে থামে টেরিফিক হিটার্স। ওপর ম্যাচে অধিনায়ক জিসানের ২০ রানের উপর ভর করে ২২ রান তুলে টিকাটুলী হারিকেনস। জবাবে মাত্র ১৩ রানে সবকটি উইকেট হারিয়ে বিদায়ের শঙ্কায় চ্যালেঞ্জিং অলরাউন্ডার্স।

চতুর্থ রাউন্ডে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লক্ষ্যে নির্ধারিত ৬ ওভারে ২৯ রান তুলে চ্যালেঞ্জিং অলরাউন্ডার্স। জবাবে ৩ বল হাতে রেখে টেরিফিক হিটার্সের জয়ে বিদায় ঘণ্টা বেজে যাও টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার চ্যালেঞ্জিং অলরাউন্ডার্সের। ওপর ম্যাচে টিকাটুলী হারিকেনসের ২৫ রানের জবাবে ৩ রানের পরাজয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম হারের স্বাদ পায় ক্রিক ফাইটার্স।

পঞ্চম রাউন্ডে জিসানের ২৪ রানের সুবাদে নির্ধারিত ৬ ওভারে ৩১ রান করে টিকাটুলী হারিকেনস। জবাব দিতে নেমে ২৪ রানে থামে টুর্নামেন্টে কোনো জয় না পাওয়া চ্যালেঞ্জিং অলরাউন্ডার্স। ওপর ম্যাচে টেরিফিক হিটার্সের ৩0 রানের জবাবে ২১ রানে থামে ক্রিক ফাইটার্স।

শেষ রাউন্ডের খেলায় টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে জিততেই হবে ক্রিক ফাইটার্সকে। প্রতিপক্ষ ইতোমধ্যে বিদায় নেওয়া চ্যালেঞ্জিং অলরাউন্ডার্স। ওপর ম্যাচে টেরিফিক হিটার্স ও টিকাটুলী হারিকেনসের যে জিতবে, ফাইনাল খেলবে সেই দল। প্রথম ম্যাচে চ্যালেঞ্জিং অলরাউন্ডার্স টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৩৯ রান তুলে। জবাব দিতে নেমে শাহ আলীর হার না মানা ২১ রানে ৫ বল হাতে রেখেই জয় পায় ক্রিক ফাইটার্স। ফলে টুর্নামেন্টে টিকে থাকল তাদের আশা। ওপর ম্যাচ জিতে সরাসরি ফাইনালে চলে যায় টেরিফিক হিটার্স। পয়েন্ট সমান হওয়ায় ক্রিক ফাইটার্স ও টিকাটুলী হারিকেনসের মধ্যে কে ফাইনাল খেলবে তা নির্ধারিত হয় প্লে অফের মাধ্যমে।

প্লে অফে প্রথমে ব্যাট করতে নামে টিকাটুলী হারিকেনস। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলা জিসান আউট হয় শূন্য রানে। তাহমিদের ১৭ রানে ভর করে টিকাটুলী হারিকেনস স্কোরবোর্ডে জমা করে ২৫ রান। জবাব দিতে নেমে পাঁচ ওভারে ২৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে ক্রিক ফাইটার্স। শেষ ওভারে দরকার তখন ৩ রান। টিকাটুলী হারিকেনসের অধিনায়ক জিসানের প্রথম দুই বল ক্রিক ফাইটার্সের অধিনায়ক কোনো রান নিতে না পারলেও তৃতীয় বলে চার মেরে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সাকিব।

ফাইনালে মুখোমুখি ক্রিক ফাইটার্স ও টেরিফিক হিটার্স। প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১৯ রানে গুটিয়ে যায় ক্রিক ফাইটার্স। স্বল্প পুঁজি নিয়ে শেষ বলে পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় ক্রিক ফাইটার্স। শেষ ওভারে দরকার তখন দুই রান। ক্রিক ফাইটার্সের অধিনায়ক সাকিব বল হাতে আসে দায়িত্ব নিয়ে। ব্যাটিং প্রান্তে থাকা প্রত্যয় প্রথম চার বলে রান নিতে ব্যর্থ হলেও শেষ দুই বলে দুটি সিঙ্গেল নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় টেরিফিক হিটার্স।

টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান করে টিকাটুলী হারিকেনসের অধিনায়ক জিসান (৮৫)। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পজিশনে আছে ক্রিক ফাইটার্সের শাহ আলী (৬২) ও জুয়েল (৫৪)। ১২ টি উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ক্রিক ফাইটার্সের দিপু। এর পরেই রয়েছে ১১ উইকেট নেওয়া টিকাটুলী হারিকেনসের অধিনায়ক জিসান ও তৃতীয় পজিশনে রয়েছে ১০ উইকেট নেওয়া চ্যাম্পিয়ন দলের সাহিল।