‘ছপাক’-এ অ্যাসিডে দগ্ধ দীপিকা!



দীপিকা পাড়ুকোন নামটা শুনলেই দুষ্টু-মিষ্টি এক মায়াবী চেহারা মনের পর্দায় ভেসে ওঠে। কিন্তু হঠাৎ করে সে চেহারা যদি বদলে যায়। যদি দেখা দেয় অ্যাসিড আক্রান্ত বীভৎস এক মুখ!

নিজেকে দেখে শিউরে উঠেছেন দীপিকা নিজেও। অ্যাসিডসন্ত্রাসের শিকার লক্ষ্মী আগরওয়ালের জীবনী নিয়ে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র, নাম ‘ছপাক’। অ্যাসিডে দগ্ধ নারীর চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপিকা।

সিনেমার ফার্স্ট লুক প্রকাশ পায় দীপিকা পাড়ুকোনের ইনস্টাগ্রামে। তারপর যা হবার তাই দীপিকা পাডুকোনকে দেখে আঁতকে ওঠেন ভক্তরা। ছবি দেখে ইতিমধ্যে অনেক ভক্ত চলচ্চিত্রটি দেখার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের সাহসী আর অনুপ্রেরণাদায়ক চরিত্র বাছাইয়ের জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন দীপিকা পাডুকোনকে।

তবে সে জন্য অপেক্ষা করতে হবে অন্তত ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে ‘মালতী’র ছবি এখন অনেকের মধ্যেই কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। দিল্লিতে পুরোদমে ছবির শুটিং চলছে।

কুর্তা, পায়জামা পরা দীপিকা করিডরে হাঁটছেন, শুটিংয়ের এ রকম একটি ভিডিও ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি আদালতের একটি দৃশ্য। কেননা ভিডিওতে আইনজীবীর পোশাকে একজন সহকর্মীকেও দেখা যায়।

প্রসঙ্গত,ভারতের তরুণদের অনেকেই লক্ষ্মী আগারওয়ালকে চেনেন ‘প্রেরণাদায়ক বক্তা’ হিসেবে। তিনি দিল্লির একজন সাধারণ নারী, যিনি মাত্র ১৫ বছর বয়সে ভয়ংকরভাবে অ্যাসিড–সন্ত্রাসের শিকার হন। ‘নাঈম’ নামের প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি বয়সী এক লোক লক্ষ্মীকে প্রথমে প্রেমের ও পরে বিয়ের প্রস্তাব দেন। স্বাভাবিকভাবেই লক্ষ্মী ও তার পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে।

২০০৫ সালের এক সুন্দর সকালে লক্ষ্মী যখন হেঁটে বাজারে যাচ্ছিলেন, তখন বিয়ারের বোতলভর্তি অ্যাসিড ছুড়ে দেওয়া হয় তার দিকে। অ্যাসিডে পুড়ে যায় লক্ষ্মীর মুখ, হাত। মুহূর্তেই সুন্দর মুখ হারিয়ে যায় অ্যাসিডের বীভৎসতার আড়ালে। রাস্তায় গড়িয়ে পড়ে চিৎকার করতে থাকেন লক্ষ্মী, আশপাশের মানুষগুলো তখনো হতভম্ব হয়ে দেখেছে সেই দৃশ্য!

প্রায় পাঁচ মিনিট পর এক ট্যাক্সিওয়ালা এগিয়ে আসেন। পাঁজাকোলা করে তাঁকে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান।

শুরু হয় যমে মানুষে টানাটানি। সেবার ডাক্তারদের হার না মানা মানসিকতা লক্ষ্মীকে ফিরিয়ে আনে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে। দ্বিতীয়বার জীবন পেয়ে হার মানেননি লক্ষ্মী। ২০০৬ সালেই হাইকোর্টে পিআইএল দাখিল করেন, বেআইনিভাবে রাস্তায় অ্যাসিড বিক্রি করা যাবে না। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের স্বাক্ষর নিয়েছেন এই আইন পাস করতে আবেদনের জন্য।

দীর্ঘ সাত বছরের সংগ্রাম শেষ হয় ২০১৩ সালে। অবশেষে আদালত রায় দেন, ‘প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ছাড়া অ্যাসিড কেনাবেচা করা যাবে না, পুরো ব্যাপারটাতে সরকারের নজরদারি থাকতে হবে। অ্যাসিড আক্রান্ত নারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে লক্ষ্মী এনজিও খুলেছেন।

এই হার না মানা মনোভাবের জন্য সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা লক্ষ্মীকে পুরস্কৃত করেছেন। তা ছাড়া ভারত সরকারও তাকে ভূষিত করেছে নানা পুরস্কারে। পেয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্মাননা।বর্তমানে এক কন্যাসন্তানের জননী লক্ষ্মী একটা টিভি চ্যানেলে উপস্থাপিকা।