জুনে আশংকাজনক হারে বেড়েছে অপরাধ


জুনে আশংকাজনক হারে বেড়েছে অপরাধ
জুনে আশংকাজনক হারে বেড়েছে অপরাধ

গত এপ্রিলে দেশের থানাগুলোতে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে এলেও জুনের পর আবার তা বাড়ছে বলে জানা গেছে। জুন মাসে দেশের ৬৬০টি থানায় যেসব মামলা হয়েছে, তার এক তৃতীয়াংশই দায়ের করা হয়েছে মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায়।

নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও বিভিন্ন পারিবারিক অপরাধের ঘটনাও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে। আবার মহামারীর মধ্যে অনেক ঘটনা থানা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না বলে অপরাধ বিশ্লেষকদের ধারণা।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হয় মার্চ মাসে। সংক্রমণ বাড়তে থাকলে ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে শুরু হয় লকডাউনের বিধিনিষেধ। এ মাসে দেশে মামলার সংখ্যা কমে হয় ১৭ হাজার ১৫০টি।

এপ্রিলে পুরোদমে লকডাউনের মধ্যে সারা দেশে মোট মামলার সংখ্যা এক ধাক্কায় ৯ হাজার ৯৮টিতে নেমে আসে।

মে মাসে কয়েক ধাপে বিভিন্ন বিধিনেষেধ তুলে নেওয়া হলে মানুষের চলাচল বাড়ে। ৩১ মে সব অফিস খুলে দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়ে যায়।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মে মাসে সারাদেশে মামলার সংখ্যা এপিলের চেয়ে প্রায় আড়াইহাজার বেড়ে হয় ১১ হাজার ৫০০। জুন মাসে তা আরও বেড়ে ১৩ হাজার ১৯২টিতে পৌঁছায়।

এই ছয় মাসের মধ্যে জানুয়ারি মাসে যেখানে ৯৮টি ধর্ষণের তথ্য এসেছিল সেখানে ফ্রেব্রুয়ারিতে ৯২টি এবং মার্চে ৬৭টি ঘটনার তথ্য এসেছে আসনের পরিসংখ্যানে। এরপর এপ্রিলে ৭৬টি, মে মাসে ৯৪টি ধর্ষণের ঘটনার তথ্য এলেও জুনে তা এক লাফে বেড়ে ১৭৪টি হয়েছে।

আইন ও শালিস কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে দেশে ৬০১টি ধর্ষণ, স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রীর মৃত্যুর ১০৭টি ঘটনা ঘটেছে। যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে ১০৩টি, যার কারণে ৯ জন আত্মহত্যা করেছেন। শিশু নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে ৬৮০টি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী জুন মাসে ২৭টি ডাকাতি, ৭৯টি দস্যুতা, ১০১৪টি নারী নির্যাতন, ২০৬টি শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে সারা দেশে। আর মাদক আইনের মামলা হয়েছে ৪ হাজার ১৪৫টি।