ঢাকার ৯% মানুষ শব্দদূষণে ক্ষতির শিকার



শব্দদূষণে ক্ষতির শিকার হচ্ছে ঢাকার ৯ শতাংশ মানুষ। শ্রবণ সমস্যা নিয়ে তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন। শব্দের মাত্রা নিয়ে পরিচালিত পরিবেশ অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনই এ তথ্য দিচ্ছে।আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও মিশ্র এলাকাভেদে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত শব্দের গ্রহণযোগ্য মাত্রা ৫০-৭০ ডেসিবেলের মধ্যে। কিন্তু রাজধানী ঢাকার শব্দের মাত্রা ১৩৫ ডেসিবেল ছাড়িয়ে গেছে, যা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি। মাত্রাতিরিক্ত এ শব্দের কারণে বধিরতাসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় ভুগছে মানুষ।শব্দমাত্রা পরিমাপের জন্য আটটি বিভাগীয় শহরে জরিপ চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ওই জরিপ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকার প্রতিটি স্থানেই শব্দ নির্ধারিত মান মাত্রার দুই থেকে তিন গুণ। ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শব্দদূষণ ফার্মগেটে। ফার্মগেট মোড়ে শব্দের মাত্রা ১৩৫ দশমিক ৬ ডেসিবেল। উত্তরা ১৪ নং সেক্টরের ১৮ নং সড়কে শব্দ সর্বনিম্ন মাত্রায় থাকলেও তাও নির্ধারিত মাত্রার দ্বিগুণ। এ এলাকায় শব্দের মাত্রা পাওয়া গেছে ১০০ দশমিক ৮ ডেসিবেল।জরিপে ঢাকার ৭০টি স্থানে ১১ লাখ ৩৪ হাজারবার শব্দের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রতিটি স্থানে ৯০ জন করে ৬ হাজার ৩০০ মানুষের মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া শব্দের উৎস পর্যবেক্ষণ ও হর্ন গণনাও করা হয় জরিপের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলোয়।চিকিৎসকরা বলছেন, আকস্মিক তীব্র শব্দে অন্তঃকর্ণের ক্ষতির কারণে মানুষ আংশিক বা সম্পূর্ণ বধির হয়ে যেতে পারে। শব্দদূষণ থেকে বধিরতা ছাড়াও সৃষ্টি হতে পারে নানা জটিল রোগেরও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ৩০টি রোগের কারণ ১২ রকমের পরিবেশদূষণ, শব্দদূষণ যার মধ্যে অন্যতম। শব্দদূষণের কারণে রক্তচাপ ও হূত্স্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং হূিপণ্ড ও মস্তিষ্কে অক্সিজেন কমে যেতে পারে। এজন্য শ্বাসকষ্ট, মাথাঘোরা, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা, নিদ্রাহীনতাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।মাত্রাতিরিক্ত শব্দের কারণে তাত্ক্ষণিক বা দীর্ঘস্থায়ী বধিরতা, কানে শোঁ শোঁ শব্দ করা, মাথা ঘোরানো, মাথাব্যথা ও নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও হূদরোগের ঝুঁকি থাকে। শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিও আছে শব্দদূষণের। সে কারণে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকার প্রায় ৯ শতাংশ মানুষ কানের অসুস্থতা নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশ উচ্চশব্দে টেলিভিশন দেখে অথবা মোবাইলে কথা বলে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শব্দদূষণের কারণে সবাই সাময়িক বা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিশু, হাসপাতালের রোগী, ট্রাফিক পুলিশ, পথচারী ও গাড়িচালকরা।