তিন বছরে ইয়েমেনে ‘অপুষ্টিতে’ ৮৫ হাজার শিশুর মৃত্যু



মৃত শিশুদের এই সংখ্যাটি যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বার্মিংহামের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের সংখ্যার সমান বলে জানিয়েছে সেখানকার ত্রাণসংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন।

একসময় ইয়েমেনের মোট খাদ্য আমদানির ৯০ শতাংশই হুদাইদাহ বন্দর দিয়ে আসতো। বন্দরটি বর্তমানে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, এ বন্দর দিয়ে বাণিজ্যিক আমদানির পরিমাণ এক মাসে ৫৫ হাজার মেট্রিক টন কমেছে। ৪৪ লাখ মানুষের খাদ্য চাহিদা মেটানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল। এর মধ্যে ২২ লাখ শিশু রয়েছে।

এদিকে এক কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ইয়েমেনি দুর্ভিক্ষের মুখে আছে বলে গত মাসে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। এই বিশ্ব সংস্থাটি বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক মানবিক সংকট সৃষ্টিকারী ইয়েমেনের যুদ্ধ অবসানে লড়াইরত পক্ষগুলোরকে আলোচনার টেবিলে বসানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।

২০১৪ সালে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহর প্রতি অনুগত সেনা সদস্যদের সঙ্গে একজোট হয়ে সানাসহ দেশের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সংঘাতে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে ইয়েমেন।

২৬ মার্চ ২০১৫ থেকে ইয়েমেনে ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান পরিচালনা শুরু করে সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো। ইয়েমেনের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট আব্দ-রাব্বু মানসুর হাদির কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ বিমান অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এর আগে দেশজুড়ে ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হুথি বিদ্রোহীদের উত্থানের মুখে দেশ ছাড়েন মানসুর হাদি। ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলা শুরুর পর ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ঘরহারা হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ।