দারিদ্র্য বিমোচন কি অধরাই থাকবে?


দারিদ্র্য বিমোচন কি অধরাই থাকবে?


২০৩০ সালের মধ্যে দেশে দেশে চরম দারিদ্র্য বিমোচনে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল বিশ্ব। তবে করোনা থেকে শুরু হয়ে ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটে এই অগ্রগতি থমকে গেছে। এর ফলে বিশ্বকে চরম দারিদ্র্যমুক্ত করার যে লক্ষ্য তা সম্ভবত অধরাই থেকে যাবে। দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে এমন হতাশার কথাই শুনিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বুধবার বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাসের কণ্ঠে সেই হতাশাই ফুটে উঠেছে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও অন্যান্য সংকট আরও খারাপ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের এক পরিসংখ্যানমতে, করোনা মহামারির মধ্যে বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্যের হার বেড়ে গেছে। ২০২০ সালে বিশ্বের প্রায় ৭ কোটি মানুষ নতুন করে চরম দারিদ্র্যের কবলে পড়ে। ১৯৯০ সালে দারিদ্র্যের তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে এক বছরে এত বেশি মানুষের দরিদ্র হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।

আরও পড়ুনঃ এলজিবিটি প্রচারণার দায়ে রাশিয়ায় জরিমানা টিকটকের

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনার কারণে সারাবিশ্বে রীতিমতো ঝড় বয়ে যায়। সব থেকে দুর্দশার মুখে পড়ে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ। প্রায় ৭ কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়। অর্থাৎ বিশ্বব্যাংকের দেয়া দারিদ্র্যের নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী বিশ্বজুড়ে বিশাল একটা জনগোষ্ঠীকে দৈনিক আয় ২.১৫ ডলারের নিচে জীবন চালিয়ে নিতে হয়। এক্ষেত্রে দরিদ্র তথা অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেকায়দায় পড়ে।

বর্তমানে করোনা মহামারি শেষ হলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং শোচনীয় থেকে আরও শোচনীয় হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতেই বৈশ্বিক ঋণদান সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, বছরের (২০২২) শেষ নাগাদ নতুন করে আরও ৯ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবলে পড়তে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দায় সেই আশঙ্কা আরও ঘনিভূত হচ্ছে।