দুনিয়া কাঁপিয়ে দেয়া উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্যগুলো!



প্রতিষ্ঠা সময়ের পর থেকেই উইকিলিস বিভিন্ন ধরনের তথ্য ফাঁস করে আসছিলো। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাধ্যমে যুদ্ধ, জাতীয় নিরাপত্তা, সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি সবকিছুর তথ্যই ফাঁস হয়েছিলো ।

ফাঁস হওয়া এসব ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম কিছু ছিল। যেগুলো তথ্য সারা দুনিয়াকেও কাঁপিয়ে তুলতে পারে।

নাইন ইলেভেন ঘটনার বার্তা: 

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারে হামলার দিন একে অপরের খবর নিতে মানুষজন যেসব পেজার বার্তা প্রদান করেছিলেন সেগুলোর মধ্য থেকে প্রায় ছয় লাখ বার্তা প্রকাশ করেছিলো উইকিলিকস। ঐ হামলার প্রতি সরকারি নানা দপ্তরের প্রতিক্রিয়াও ছিল।

এছাড়াও,  উল্লেখযোগ্য বার্তাটি ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট সম্পর্কিত। তাতে লেখা ছিল, প্রেসিডেন্টের গমনপথ পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে। তিনি ওয়াশিংটনে ফিরছেন না। তবে কোথায় যাবেন সে বিষয়ে নিশ্চিত নন তিনি।

হেলিকপ্টার হামলা:

২০১০ সালে উইকিলিকস একটি ভিডিও প্রকাশ করে যাতে দেখা গেছে ইরাকের বাগদাদে মার্কিন হেলিকপ্টার থেকে চালানো হামলায় কিভাবে বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। ভিডিওতে বলতে শোনা গেছে, সবাইকে জ্বালিয়ে দাও। এরপরই বিভিন্ন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোঁড়া হয়।

মার্কিন গোপন তথ্য ফাঁস:

উইকিলিকস মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক বিশ্লেষক চেলসি ম্যানিং কর্তৃক ফাঁস করে দেয়া বহু তথ্য প্রকাশ করেছে। সেই তথ্য দেখা গেছে মার্কিন সেনাবাহিনী আফগানিস্তানে শত শত বেসামরিক নাগরিক হত্যা করেছে। এছাড়াও, ইরাকি সেনাদের দ্বারা বন্দিদের নির্যাতনের তথ্য এবং মার্কিন কূটনীতিকদের আদান প্রদান করা আড়াই লাখ বার্তা ফাঁস করা হয়েছিলো।

ইমেইল বার্তা:

২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণা বিষয়ক প্রধান জন পোডেস্টার ইমেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা কয়েক হাজার ইমেইল ফাঁস করেছিলো উইকিলিস। সেখানে ডেমোক্র্যাট থেকে মনোনয়নের আগে দলের মধ্যে হিলারি ক্লিনটনের প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স সম্পর্কে কটূক্তি করা হয়েছিলো।

সিনেমা তথ্য ফাঁস:

উইকিলিসে মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সনি পিকচারস-এর প্রায় দুই লাখ ইমেইল ও ২০ হাজার নথি ফাঁস করা হয়েছিলো ২০১৫ সালে। সেখানে আলোচনায় আসে একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে রাজি না হওয়ায় হলিউড তারকা লিওনার্ডো ডি ক্যাপ্রিওকে কীভাবে গালি দেয়া হয়েছে এবং আমেরিকান হাসল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স ও এমি অ্যাডামসকে পুরুষ অভিনেতাদের তুলনায় কত কম পারিশ্রমিক দেয়া হয়েছিলো।