দেশে শনাক্ত কমলেও বেড়েছে মৃত্যুর হার


দেশে করোনা-র দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা, প্রস্তুত থাকার পরামর্শ


বাংলাদেশে ৮ মার্চ করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর সময় পেরিয়েছে প্রায় ছয় মাসের কাছাকাছি। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে তিন লাখ ৬ হাজার ৭৯৪ জন আর মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ১৭৪ জনের। তবে বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। গত সাত দিনে গড়ে মারা গেছেন প্রায় ৪৫ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন– করোনার চরিত্রের পরিবর্তনের কোনও বৈজ্ঞানিক তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি, তবে এর গতি-প্রকৃতিতে পরিবর্তন এসেছে। এছাড়া সম্প্রতি মৃত্যু বাড়ার পেছনে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাও দায়ী আছে বলে মনে করেন তারা।

দেশে এখন পর্যন্ত করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৫ লাখ ১৪ হাজার ১২৬টি। পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছে তিন লাখ ছয় হাজার ৭৯৪ জন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন চার হাজার ১৭৪ জন এবং সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ৯৬ হাজার ৮৩৬ জন। অর্থাৎ করোনা সক্রিয় রোগী আছেন বর্তমানে এক লাখ পাঁচ হাজার ৭৮৪ জন।

গত ২ জুলাই দেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায় ২৪ ঘণ্টায়। এদিন শনাক্তের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ১৯। এরপর ধীরে ধীরে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমতে থাকে। ১৫ জুলাই শনাক্ত হয় তিন হাজার ৫৫৩ জন। এরপর এখন পর্যন্ত মাত্র তিন দিন তিন হাজারের উপরে শনাক্ত হয়েছে।

বাকি দিনগুলোতে শনাক্ত তিন হাজারের নিচেই ছিল। আগস্টের শেষে এসে বিগত কয়েকদিন করোনা আক্রান্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের নিচে নেমে এখন ১৬ শতাংশে অবস্থান করছে। তবে বিগত বেশ কয়েক দিন ধরেই করোনা আক্রান্ত হয়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। গত সাত দিনে গড়ে মারা গেছেন প্রায় ৪৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মতে, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ৮৫। আর সেদিন ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ৩৫। এরপর ১৫ মে পর্যন্ত শনাক্তের হার ছিল ১২ দশমিক ৫০, ২০ মে তে শনাক্তের হার দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ১১।

২৬ মে থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতর আনুষ্ঠানিকভাবে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার প্রকাশ করা শুরু করে। এদিন ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আর হিসাব করে দেখা গেছে, এদিন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ছিল ১৪ দশমিক ২২। ৩১ মে শনাক্তের হার ছিল ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ৩০ জুন শনাক্তের হার ছিল ১৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ৩০ জুলাই ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

বিগত চার মাসের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, শনাক্তের হার ২০-২৫ শতাংশের মধ্যেই আছে। শুধু গত ৩ আগস্ট শনাক্তের হার ছিল রেকর্ড সংখ্যাক ৩১ দশমিক ৯১ শতাংশ। দেশে ৮ মার্চ করোনা শনাক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত এটি সর্বোচ্চ শনাক্তের হার। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ দশমিক ২৬ শতাংশ।

করোনাতে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন চার হাজার ১৭৪ জন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক মানুষের বয়স ৬০ বছরের উপরে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা বিষয়ক মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে মারা গেছেন ১৯ জন; যা শতকরা শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ।

১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১০০ জন; যা দুই দশমিক ৪০ শতাংশ। ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৫৫৯ জন; যা ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এক হাজার ১৫১ জন; যা ২৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী মারা গেছেন দুই হাজার ৬৪ জন; যা ৪৯ দশমিক ২১ শতাংশ।