নিউজিল্যান্ড সফরের চিরচেনা বাংলাদেশ!



সাকিব আল হাসান নেই। সিরিজ শুরুর আগে সাকিবের ইনজুরিই বোধহয় মানসিকভাবে পিছিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে। সাকিবের খেলা মনে একজন বাড়তি বোলার কিংবা ব্যাটসম্যান খেলানোর স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতায় বাঁধ সেধেছে সাকিবের আঙুলের ইনজুরি।

একজন ব্যাটসম্যান বেশি খেলালে একজন বোলার কম নিয়ে খেলতে হবে বাংলাদেশকে। আবার একজন বোলার বেশি নিয়ে মাঠে নামলে ব্যাটসম্যান তালিকাটা ছোট হয়ে যাবে। কি করবে বাংলাদেশ? সেক্ষেত্রে ব্যাটিং লাইনআপ শক্ত করেই মাঠে নামার সিদ্ধান্ত টিম ম্যানেজমেন্টের। এ যেন সেইফ জোনে থেকে লড়াই করা।

৭-৮ জন ব্যাটসম্যান, ৪ জন বোলার। বাকি কাজ চালানোর জন্য পার্টটাইম বোলারদের উপর ভরসা। বেশিরভাগ সময়ই কাজ না করা এ সিদ্ধান্ত এক প্রকার বাজি ধরে লড়াই করে যাওয়া। সেই সাথে নিউজিল্যান্ড কন্ডিশনে সুইং-বাউন্সের রাজ্যে টসে জিতে বোল্ট-লুকিদের কাছে নিজেদের সঁপে দেওয়া যেন আত্মহুতির সামিল।

বাজিতে হেরেছে বাংলাদেশ, ব্যাটসম্যান বেশি নিয়ে খেললেও স্কোর বোর্ডে জমা পড়েনি রান। শুরুর ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের সুইংয়ে তামিমের পরাস্ত হওয়াই আজকের বাংলাদেশের ব্যাটিং চিত্র। লিটন কুমার দাসও হেরেছে সুইংয়ের কাছে।

এছাড়া পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা সৌম্য, দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা না করে উইকেট বিলিয়ে দেওয়া মুশফিক-মাহমুদুল্লাহ, দীর্ঘদিন পর দলে ফিরেও সুযোগটা কাজে লাগাতে না পারা সাব্বিরদের আসা যাওয়ায় হতাশা বেড়েছে কেবল। লুকি ফারগুসনের গতির ঝড়ে যেন চোখে সরষে ফুল দেখছিল ব্যাটসম্যানরা।

মিডল অর্ডারের এমন ধসে সাকিবকেই মনে পড়ছিল বেশ। এরই মাঝে ব্যতিক্রম মোহাম্মদ মিঠুন। এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন, খেলেছেন পরিস্থিতি সামলে। পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা মেহেদী হাসান মিরাজের অতিরিক্ত শট খেলার প্রবণতা থেমেছে মিচেল স্যান্টনারের স্পিনের বিরুদ্ধে উড়িয়ে মারতে গিয়ে।

মিঠুনকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছিলেন সাইফুদ্দিন। তাদের জুটি এগিয়েছে, এগিয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে দেড়শ রানের শঙ্কা, ঠুক সেখানে দুইশ পেরোনো স্কোর শুধু তাদেরই কল্যানে।

জবাবে, হেনরি নিকোলস ও মার্টিন গাপটিলের শতরানের উদ্বোধনী জুটি শুরুতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। মাশরাফি, মুস্তাফিজ, সাইফুদ্দিন, মিরাজরা কাজের কাজ করতে পারছিলেন না। এখানেও সাকিবের অভাব স্পষ্ট চোখে পড়ে।

মিরাজের প্রথম আঘাতের পরও দমানো যায়নি কিউইদের। গাপটিলের অপ্রতিরোধ্য ব্যাটিং জয়ের দিকেই নিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডদের। সাব্বির হাত ঘুড়িয়েছে, হাত ঘুড়িয়েছে মাহমুদুল্লাহও। মাহমুদুল্লাহর বলে আউট হয়েছেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন।

সদ্য ইনজুরি থেকে ফিরে আসা মার্টিন গাপটিলের শতক ও টেইলরের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই শেষ হয় প্রথম ওডিআই। যেখানে হেরে ১-০ যে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

সিরিজে টিকে থাকতে হলে জিততে হবে ১৫ তারিখ দিবাগত রাত ভোর চারটায় শুরু হওয়া দ্বিতীয় ওয়ানডেতে। আগে থেকেই পিছিয়ে পড়ার মানসিকতা থেকে বের হয়ে অসাধারণ কিছু করে দেখাতে পারলেই কেবল সফলতা আসবে। না হলে, অতীতের মতো এবারের নিউজিল্যান্ড সফরও ব্যর্থতায় শেষ হবে। যেই নিউজিল্যান্ডে সুখকর কোনো স্মৃতি নেই

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ : ২৩২/১০ (৪৮.৫ ওভার)
(তামিম ৫, লিটন ১, সৌম্য ৩০, মুশফিক ৫, মিঠুন ৬২, মাহমুদুল্লাহ ১৩, সাব্বির ১৩, মিরাজ ২৬, সাইফুদ্দিন ৪১, মাশরাফি ৯*, মুস্তাফিজ ০, বোল্ট ৩/৪০, স্যান্টনার ৩/৪৫ ফার্গুসন ২/৪৪, হেনরি ২/৪৮)

নিউজিল্যান্ড : ২৪৪/২ (৪৪.৩ ওভার)
(গাপটিল ১১৭, নিকোলস ৫৩, উইলিয়ামসন ১১, টেইলর ৪৫, মিরাজ ২/৪২, মাহমুদুল্লাহ ১/২৭)
ফলাফল : নিউজিল্যান্ড আট উইকেটে জয়ী।