নির্বাচনে ভুয়া খবরের প্রভাব কতটা?



বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে ভুয়া খবর।এর আগেও দেশে অনলাইনে কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়িয়ে হামলা কিংবা উত্তেজনা সৃষ্টির বেশকিছু আলোচিত ঘটনা ঘটেছে। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই প্রবণতা কয়েকগুনে বেড়ে গেছে।

এমন অবস্থায় আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের আগে ভুয়া খবর ছড়িয়ে সুবিধা নেয়ার বা সহিংসতা সৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যেতে পারে বলে আশংকা করছেন অনেকে।

বর্তমানে বিভিন্ন জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমে জড়িয়ে এবং তাদের ওয়েবসাইটের অনুকরণ করেও ছড়ানো হচ্ছে ভুয়া খবর।

সম্প্রতি গত  ১৪ই নভেম্বর ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। সেদিন দলের নির্বাচনী মনোনয়নপত্র সংগ্রহের জন্য নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়েছিলেন দলীয় কার্যালয়ের সামনে।

সংঘর্ষের পরদিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশের গাড়িতে এক যুবক অগ্নিসংযোগ করছেন এরকম একটি ছবি দুইভাবে ভাইরাল হয়।

একটি ছবিতে যুবকের পরিচয় দেয়া হয় ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে। অন্যটিতে ছাত্রদল নেতা হিসেবে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।

তবে এর মাস তিনেক আগে ঢাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করেও নানারকম গুজব, ভুয়া খবর বা ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো।

বাংলাদেশে এখন প্রবল মাত্রায় নির্বাচন ঝড়। এ অবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে জোর প্রস্তুতি, প্রতিযোগিতা। কখনো কখনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতিও সৃষ্টি হচ্ছে। এমন অবস্থায় ভুয়া খবরের প্রবণতা আরো বাড়ার আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন এমন একটা অবস্থা যেখানে এমনিতেই টেনশন অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে থাকে। এমন সময় প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীকে ঘায়েল করতে বা সুনামহানি করতে কিংবা নির্দিষ্ট কোন প্রার্থীকে মহান বানাতে ভুয়া খবর ফেসবুকে ছড়ানো হতে পারে। অতীতে এমন অনেক উদাহারণ আছে।

নির্বাচনের সময় ভোট কেন্দ্র সম্পর্কে ভুল খবর দিয়ে, কোন বিশেষ জনগোষ্ঠী বা ভোটারদের সম্পর্কে গুজব ছড়িয়ে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান অনলাইন ব্যবহারকারীদের অধিকাংশেরই তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা নেই। অবশ্য এক্ষেত্রে কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করলে ভুয়া খবর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুয়া খবরের হেডলাইন সাধারণত: চটকদার হয়। ‘না দেখলে মিস’ ‘একি বললেন’ বা ‘ব্রেকিং নিউজ’ এ ধরণের ভাষা বা শব্দের ব্যবহার কিংবা অস্বাভাবিক কোন তথ্য দেখলেই সতর্ক হতে হবে। খবরের লিংকে ক্লিক করে দেখা যেতে পারে খবরটি কোন ওয়েবসাইটের।

এছাড়াও খেয়াল করতে হবে সেটি মূলধারার কোন গণমাধ্যম কি-না। যদি সেটা অপরিচিত বা অখ্যাত কোন ওয়েবসাইট হয় তাহলে সেটি বিশ্বাস বা শেয়ারের আগে আরো যাচাই করতে হবে। এখন যেহেতু খোদ ওয়েবসাইটও ক্লোন করা হচ্ছে, সেহেতু ওয়েবসাইটের ঠিকানা ভালোভাবে খেয়াল করে রাখা যেতে পারে।

এক্ষেত্রে হেডলাইনটি কপি করে গুগল সার্চে দিলে খবরটি যদি সত্য হয় তাহলে এ সংক্রান্ত একাধিক খবরের লিংক চলে আসবে। সেগুলো পড়ে দিন-তারিখ যাচাই করে খবরটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব।