টাকার কাছে নীতি কি পরাজিত হবে?


sadek #paperslife

পাস্তুরিত দুধে এন্টিবায়োটিক পাওয়া গিয়েছে। এটা নিয়ে কম বেশী অনেক আলোচনা হয়েছে। সর্বোপরি যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

মূলত নিরাপদ খাদ্য বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব সহকারে ছিলো। পাস্তুরিত দুধের এই পরীক্ষায় ফার্মাসিস্টদের জনক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক স্যার এর সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন গুনী শিক্ষক ছিলেন অন্যতম।

এক্ষেত্রে আমাদের কিছু বিষয় জেনে নেয়া ভাল। এই পরীক্ষা সফলভাবে বাংলাদেশের স্বনামধন্য ল্যাবে করা হয়েছে। এই ল্যাবে ছিল অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও আধুনিক মান সম্পন্ন যন্ত্রপাতি। নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে নিয়ম অনুযায়ী ভোক্তা যেখান থেকে সংগ্রহ করে। ১৯টি প্যারামিটার নিয়ে এই গবেষণা করা হয়।

এর আগে, নিরাপদ খাদ্য সংস্থা দুধে সীসা সনাক্ত করেন ২০১৮ সালে। ৮। ২০১৮ সালে কোর্টে রিট করেন এক আইনজীবি দুধে সীসা পাওয়া নিয়ে।

শুধু দুধ না এই গবেষক দল আরো নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও মসলা, গুরা মরিচ , গুরা হলুদ নিয়েও গবেষণা করেন। সবগুলো দুধের মধ্যে মানুষের জন্য এন্টিবায়োটিক, ডিটারজেন্ট ও সীসা পাওয়া যায়। এই বিশেষজ্ঞ দলটি কোম্পানী গুলোর নাম ব্যবহার না করে জনসচেতনতার জন্য পাস্তরিত দুধ গরম করে খাওয়ার পরামর্শ দেন।

দেশের সাধারণ মানুষ এটাকে সাধুবাদ জানিয়েছে এবং এই ভেজাল দুধকে বর্জন করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় অতিরিক্ত সচিব সাহেব পি আর ভি জার্নালের কথা বলেছেন। তিনি হয়তো ভুলে গেছেন এই জার্নালে প্রকাশিত হলে সারা জীবনের জন্য বাংলাদেশের দুধশিল্প রপ্তানি বন্ধ হয়ে যেতো। কারণ সারা বিশ্ব জানতো বাংলাদেশের দুধে এন্টিবায়োটিক আছে।

হাইকোর্ট ৫ সপ্তাহের জন্য পাস্তরিত দুধ বাজারজাত বন্ধ করে দিলেন। কোম্পানি গুলো সুপ্রীমকোর্টে রিট করেন বি এস টি আই এর পরিক্ষার ফলাফল নিয়ে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বি এস টি আই এর এন্টিবায়োটিক এর প্যারামিটার নেই। বিএসটিআই ৯ টি প্যারামিটার নিয়ে কাজ করে। এরপর কয়েকটি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বিপণনের ওপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে সরালেন সুপ্রিম কোর্ট।

তবে হাইকোর্টের রিটের পর খামারিদের দেখলাম দুধ রাস্তায় ঢেলে দিলেন। এন্টিবায়োটিক ওয়াটার সলুয়োবল। চাইলে কোম্পানিগুলো এই দুধ না ফেলে ঘি বানাতে পারতেন তাহলে সেখানে এন্টিবায়োটিকের নমুনা থাকতো না। এবং সেটা এই কুরবানীর ঈদে খুব ভালোভাবে চালাতে পারতেন। এর মধ্যে তাদের জন্য একটি সুন্দর নিয়ম ও আইন হতো। এই অভিনয়টা ছিলো প্রধানমন্ত্রীর দাক্ষিণ্য পাওয়ার জন্য।

প্রকৃতপক্ষে এই নামী কোম্পানি গুলোর অনেক টাকা । তারা কেনো মাথা নতো করবে। তারা ইচ্ছে করলে সব করতে পারে।

কোম্পানিগুলো বুঝিয়েছে, খামারিরা গরীব, সামান্য এন্টিবায়োটিক শরীরে প্রবেশ করালে কিছু হয় না। এই গবেষনার সব গবেষক বিদেশী এজেন্ট।

এই জন্য মনে হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টাকা দিয়ে গরীব খামারিদের দিকে তার হাত বাড়িয়েছেন। কারণ তিনি দেখেছেন তার গরীব খামারিরা শেষ হয়ে যাচ্ছে। দুধ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যিনি সবসময় গরীব মানুষের কথা ভাবেন। কিন্তু তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, অন্যায়কে প্রশ্রয় কখনো দেননি।

এক্ষেত্রে আমি অবশ্যই কফিডেন্টলি বলতে পারি তাকে এই তথ্যগুলো জানানো হয়নি:

১. মানুষের শরীরের এন্টিবায়োটিক গরুর শরীরে দেওয়া হয়েছে।
২. গরুর শরীরে এন্টিবায়োটিক দিলে ২১ দিন পর্যন্ত এই দুধ ও মাংস খাওয়া যাবে না।
৩. এন্টিবায়োটিক শরীরে গেলে সেটা ডোজ মেনে না খেলে শরীরে পরে এই এণ্টিবায়োটিক কাজ করে না।
৪. পৃথিবীতে এন্টিবায়োটিক আছে সব মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ টা।
৫. বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ল্যাবরেটরী প্রতিষ্ঠান বি এস টি আই এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পরীক্ষা করতে পারে না।
৬. যদি এন্টিবায়োটিক রেজিটেন্স হয় তবে মানুষ সাধারন জ্বরে মারা যাবে।
৭. শুধু অধ্যাপক আ ব ম ফারুক স্যারের পরীক্ষাতেই না বাংলাদেশের আরো ৪ টি রাষ্ট্রিয় স্বনামধন্য ল্যাবে এই এন্টিবায়োটিকের পরীক্ষা চালিয়ে এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

যদি দুধে এন্টিবায়োটিকের উপস্থিতি অস্বীকার করেন তবে অস্বীকার করা হবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠান সাইন্স ল্যাব , নিরাপদ খাদ্য সংস্থা সহ আরো ২ টি প্রতিষ্ঠান।

অধ্যাপক আ ব ম ফারুক স্যার বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারন করেন। তাই তিনি গণমানুষের কথা চিন্তা করে এই পরীক্ষা করেছেন।

আমি সাধারণ মানুষ হিসেবে আশা করবো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই গবেষক দলকে ডেকে শুনবেন তাদের পরীক্ষার কথা। দুধে মানুষের শরীরের এন্টিবায়োটিক নেই প্রমাণ চাইবেন কোম্পানি গুলোর কাছে। যদি থাকে তাহলে ভেটেনারী এন্টিবায়োটিক না দিয়ে কেনো মানুষের জন্য তৈরি এন্টিবায়োটিক এ প্রশ্ন তুলবেন।

এই গবেষক দল শুধু দুধ না সকল খাদ্য গবেষনা করবে এই সরকারকে ও সাধারণ মানুষকে সাহায্য করার জন্য। একজন সাধারণ বাংলাদেশি হিসেবে এই আমার প্রত্যাশা।

সাদেক আহম্মেদ সৈকত
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ ফার্মাসিস্টস্ ফোরাম