নেত্রকোনার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী খলিল সাভারে গ্রেপ্তার


নেত্রকোনার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী খলিল সাভারে গ্রেপ্তার


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নেত্রকোণার খলিলুর রহমানকে ঢাকার সাভার থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)

র‌্যাব-১৪ ও সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা মঙ্গলবার রাতে সাভার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বলে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এ বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলছেন, ২০১৫ সাল থেকে পলাতক খলিল গ্রেপ্তার এড়াতে ঘন ঘন বাসা পরিবর্তন করতেন, এমনকি মোবাইল ফোনও ব্যবহার করতেন না। গত ১৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় হওয়ার পর ৬৮ বছর বয়সী খলিল সাভারে গিয়ে আশ্রয় নেন।

আরও পড়ুনঃ বাবুল আখতার ও সাংবাদিক ইলিয়াসের বিরুদ্ধে পিবিআইপ্রধানের মামলা

র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে মঈন বলেন, ২০১৫ সাল থেকে মামলার তদন্ত কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই সে (খলিল) পলাতক ছিল। ২০১৭ সালে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে গৃহীত হলে সে আত্মগোপনে চলে যায় এবং রাজধানীর দক্ষিনখান, তুরাগ ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে। আত্মগোপনে থাকাকালীন সে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার এড়াতে নিয়মিত বাসা পরিবর্তন করত এবং একা অবস্থান করত। এ সময় যোগাযোগের জন্য সে কোনো ধরনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না। কিন্তু মাঝে মাঝে তার পরিবারের সদস্যরা গোপনে তার সাথে দেখা করত। খলিলের ছেলে-মেয়েরা তার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের জন্য নিয়মিত টাকা দিত।

২০১৫ সালের ১ এপ্রিল নেত্রকোণার এই যুদ্ধাপরাধ মামলার তদন্ত শুরু করে প্রসিকিউশনের তদন্ত সংস্থা। ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি খলিলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পলাতক খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সময় নেত্রকোণার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা থানা এলাকায় ২২ জনকে হত্যা, একজনকে ধর্ষণসহ যুদ্ধাপরাধের পাঁচ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল এ মামলায়। রায়ে সবগুলো অভিযোগেই তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এর মধ্যে চারটি অভিযোগে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং একটি অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।