পাবজিতে আকৃষ্ট, স্বামীকে তালাক দিতে চান তরুণী



নতুন এক খেলা প্লেয়ার আননোন ব্যাটলগ্রাউন্ড (পাবজি) সবাইকে মাতিয়ে রেখেছে বিশেষ করে নির্দিষ্ট একটা বয়সকে আটকে রেখেছে তার মায়াজালে। তরুণদের কাছে পাবজি নেশার মত।

নতুন খেলা পাবজি খেলতে গিয়ে বিপত্তি ঘটিয়েছে ভারতের এক তরুণী। পাবজি গেমে পার্টনার খেলোয়াড় হিসেবে উনিশ বছর বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় এক ব্যক্তির। খেলতে খেলতে তাঁরা এতটাই ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন যে, পার্টনারের সঙ্গে ঘর বাঁধতে বর্তমান স্বামীকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওই নারী।

সম্প্রতি ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে, ওই নারী আহমেদাবাদের বাসিন্দা। জনপ্রিয় অনলাইন গেম পাবজি খেলতে গিয়ে আহমেদাবাদেরই এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। গেম খেলতে খেলতেই তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা হয়। এরপর ওই পার্টনারের সঙ্গে ঘর বাঁধার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এ কারণে স্বামীকে তালাক দেওয়ার বিষয়ে সাহায্য চেয়ে ওই নারী ‘অভয়ম-১৮১’ নামের সরকারি হেল্প লাইনে ফোন করেন। ওই নারীর আবেদনে সাড়া দিয়ে তার বাড়িতে একটি পরামর্শ দল পাঠানো হয়। দলটি তদন্ত করে দেখে, ওই নারী পাবজি খেলায় খুব বেশি সময় ব্যয় করে থাকেন। এতে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তাই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অভয়ম প্রকল্পের প্রধান বলেন, ‘তাদের কাছে সাহায্য চেয়ে দৈনিক প্রায় সাড়ে পাঁচ শ ফোন আসে। তবে এমন ধারার সাহায্য চেয়ে ফোন এটিই প্রথম। সাধারণত সন্তানের পাবজিতে অতিরিক্ত আসক্তির বিষয়ে অভিযোগ করে মায়েরা ফোন করে থাকেন।’

অভয়মের পক্ষ থেকে সোনাল সাগতিয়া ওই নারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তিনি বলেন, ওই নারীকে তাঁর সিদ্ধান্তের বিষয়টি পুনরায় ভেবে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে।

সাগতিয়া আরও বলেন, ওই নারীকে আহমেদাবাদের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে থাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে ওই নারী তাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রটিতে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ।

নরেন্দ্র সিং গোহিল বলেন, নীতিগত কারণে অভয়মের কর্মীরা ওই নারীকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারেন না। তারা ওই নারীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। ওই নারী তাদের বলেছেন, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় সময় লাগবে। আরও সাহায্য প্রয়োজন হলে তিনি হেল্প লাইনে আবারও ফোন করবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছেন।

খেলা ভালো তবে খেলতে গিয়ে আসক্ত হয়ে পড়া খারাপ। এর জন্য পরিবারকে সচেতন থাকতে হবে সবসময়। কোন কিছুই যেন প্রয়োজনের অধিক না হয়।