পিরিয়ড মানে একটু চাপা হাসি অথবা ছুটির ঘণ্টা


periodmovie

ভারতের নয়াদিল্লি থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরের হাপুর গ্রাম। গ্রামটি গ্রামের মতোই। মানুষগুলোও তেমনি, সহজ-সরল।

এই গ্রামে গিয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সি ইরানি-মার্কিন পরিচালক রাইকা জ়েটাব্চির।গ্রামটি তার জন্য সাফল্যের স্বর্গও বটে। কারণ তার জীবন বদলে দিয়েছে এই গ্রাম। তার হাতে তুলে দিয়েছে অস্কার।

তার মাথায় এই গল্পের প্লটটা এলো কিভাবে? তার বর্ণনা জানিয়েছে সেটা; কোথাও মেয়েরা বা নারীরা গল্প করছেন। হঠাৎ দেখা গেলো লজ্জা আর চাপা হাসি দিয়ে কী নিয়ে যেনো কথা বলছে ওরা। জানা গেলো বিষয় পিরিয়ডস! জানতে চাওয়া হলো,কী সেটা? মেয়েরা বলছে, জানি, কিন্তু বলতে লজ্জা পাচ্ছি।

পৃথিবী কোথায় এগিয়ে চলেছে আর এই মেয়েরা এখনো কোথায়! অন্যদিকে ছেলেদের দৌড় তো দৈর্ঘ্যে মাপা যাবে কি, এখনো শুরুই হয়নি। পিরিয়ডস নিয়ে জানতে চাওয়ায় উল্টো ছেলেদের প্রশ্ন, ঘণ্টা পড়লে বুঝতে পারি পিরিয়ড শেষ হল, সেটার কথা বলছেন?

এমন টুকরো সব মুহূর্ত ধরা পড়েছে ‘পিরিয়ড. এন্ড অব সেন্টেন্স’ তথ্যচিত্রে। গ্রামীণ ভারতে ঋতুস্রাব নিয়ে কী ধরনের ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, গ্রামের নারী-পুরুষকে সচেতন করতে কী করা হচ্ছে, প্যাড মেশিন বসিয়ে কী ভাবে গ্রামের মেয়েরা একে অন্যের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, ‘ফ্লাই’ নামে স্যানিটারি প্যাড তৈরি করে কী ভাবে উত্তরণের কথা ভাবছেন তারা ২৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের ছবির প্রতিপাদ্য এটাই।

অস্কারমঞ্চে পুরস্কার হাতে কেঁদে রাইকা বলেছেন, ‘আমার পিরিয়ডস হয়েছে বলে কাঁদছি না। বিশ্বাস করতে পারছি না, ঋতুস্রাব নিয়ে তৈরি ছবি অস্কার পেয়েছে!’

তিনি উল্লেখ করেছেন ছবির প্রযোজক গুনীত মোঙ্গার কথাও। যিনি টুইট করেছেন, ‘‘আমরা জিতেছি। এই বিশ্বের সব মেয়ের জন্য… তোমরা এক এক জন দেবী… যদি স্বর্গ এ কথা শোনে…।’