প্রখ্যাত বিজ্ঞানী হয়েও শিক্ষকতার সুযোগ পেলেন না চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে!



ছোটবেলা থেকেই ড. সাজিদ আলী হাওলাদারের স্বপ্ন ছিল তিনি শিক্ষক ও গবেষক হবেন। তবে এখন পর্যন্ত গবেষকের স্বপ্ন পূরণ হলেও তিনি শিক্ষকতার সুযোগ পাচ্ছেন না।

জানা গেছে, জানা গেছে, ড. সাজিদ আলী চবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগে এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে আবেদন করেন। তবে মাস্টার্স না থাকায় ভাইভায় ডাকা হয়নি তাকে।

বর্তমানে তরুন এই গবেষক ফিনল্যান্ডের জিভাসকিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল বিভাগের অধীনে বিবর্তনবাদ শাখায় গবেষক পদে নিযুক্ত আছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন,  সেখানে আমার অধীনে অনেক মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হতে হলে তাকে মাস্টার্স করতে হবে। এই বিষয়টি নিয়ে রীতিমত অবাক হয়েছেন ড. সাজিদ আলী।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন সময়েই তিনি ফেজারভারিয়া আসমতি নামের সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির একটি ব্যাঙ আবিস্কার করেন হৈ-চৈ ফেলে দেন। বিশ্বের সরীসৃপ প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাসের ক্ষেত্রে তিনি বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসেন।

এ জন্য তাকে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বিজ্ঞানীর উপাধি দেয়া হয়। আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির কিউরেটর ড. ড্যারেল ফ্রস্ট বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসেবে তাকে স্বীকৃতি দেন।

ড. সাজিদের এই বিস্ময়কর আবিষ্কারে আকৃষ্ট হয়ে সে সময় বেলজিয়ামের ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলসের জীববিজ্ঞানের প্রবীণ প্রফেসর ফ্রাঙ্কি বসুইট তার অধীনে মাস্টার্স করার আমন্ত্রণ জানান। তবে কিছু কারণে  সেখানে তার যাওয়া হয়নি। এরপর ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা প্রফেসর ইয়োহা মারিলা ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাজিদকে বিশেষ বিবেচনায় সরাসরি পিএইচডি প্রোগ্রামে নিয়ে নেন। ফলে বয়স ৩০ পেরোনোর আগেই সাজিদ পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে ড. সাজিদের অধীনে এখন অনেক নামকরা শিক্ষার্থী মাস্টার্স করছেন।

এমন বিস্ময়কর অবদানের পরেও তরুন এই গবেষককে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগ দেয়া হয়নি। এই নিয়ম নীতির কারণে ড. সাজিদ আলীর বাংলাদেশে শিক্ষকতার স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

ড.সাজিদ বলেন, বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য অনেক। তাই এখানে গবেষণা করার অনেক সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও,  তিনি বাংলাদেশে একটি প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর বানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। যেখানে প্রাণিবৈচিত্র্যের নমুনা সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গণসচেতনতা সৃষ্টি, নতুন প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদের সন্ধানে মৌলিক গবেষণা হবে।

এছাড়াও, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পাখির অভয়ারণ্য বানানোর চেষ্টা করেছিলেন। সেক্ষেত্রেও তিনি পর্যাপ্ত সহায়তা পাননি।

জানা যায়, বর্তমানে সাজিদের আবিস্কৃত ব্যাঙের সংখ্যা চারটি। এমনকি তিনি জাকেরানা নামে প্রাণীর নতুন একটি গণেরও নামকরণ করেন। তার মধ্যে ‘জাকেরানা ঢাকা’ আবিস্কারের স্বীকৃতি দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড।  নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান বইয়ের দ্বাদশ পৃষ্ঠায় এর উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া গবেষণার জন্য তিনি  ২০১৩ সালে ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি কালচারাল ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৩ পান।