বাদুর-ই যে তার আপনজন!



ভারতের গুজরাটে এক বৃদ্ধ মহিলা বাস করেন। যাকে ‘ব্যাট ওম্যান’ বা বাদুড় মহিলা বলে ডাকা হয়।

না, ফিল্মের কোনো চরিত্র নয়, একেবারে সত্যি ঘটনা। ঘরের চার দেওয়াল জুড়ে ঘাঁটি গেড়ে থাকা প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার বাদুড়ের সঙ্গে মহানন্দে ও নিশ্চিন্তে দিন কাটাচ্ছেন এই বৃদ্ধা।

জানা যায়, ৭৪ বছর বয়সী এই নারী গুজরাটের রাজপুত গ্রামের অধিবাসী। ১৯৯৪ সাল থেকে এই মাউস টেলড ব্যাটদের সঙ্গে বসবাস করেছন তিনি। এজন্য গ্রামবাসী তাকে চামচিকেওয়ালা ঠাকুমা নামেই ডাকেন।

বৃদ্ধ এই নারী সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, ‘এত বছর ওদের সঙ্গে বাস করছি। ওরা আমার পরিবারের অংশ। বাড়ির ভিতর ছেড়ে বারান্দায় রান্না, থাকা ও ঘুমোনোর ব্যবস্থা করার পর থেকে ওদের সংখ্যাবৃদ্ধি হয়েছে। বাড়ির ভিতরে খুব বেশি আসবাবপত্রও নেই।’

শুধু তাই নয়, ছোট বাড়ির একতলা ও দোতলায় একটি করে ঘর। প্রতিটি ঘরের চার দেওয়ালে বাদুড়গুলোর কলোনি। স্বভাব মতো সারা দিন ঘুমোনোর পরে সূর্য ডুবলেই খাদ্যের সন্ধানে বাড়ি ছেড়ে উড়ে যায় বাদুড়গুলো। রাতভর খাওয়া-দাওয়া সেরে ভোরবেলা তারা ফিরে আসে।

বাদুড়ের বসবাসের জন্য সারা বাড়িতে দুর্গন্ধে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়লে নিম আর কর্পূর দিয়ে তৈরি ধূপ জ্বালিয়ে রাখেন। এখন ২৪ ঘণ্টাই অবশ্য ধূপ জ্বালিয়ে রাখতে হয় তাকে।

মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি প্রাণীগুলিকে সরাতে নারাজ বলে জানান তাঁর গ্রামের সরপঞ্চ। তিনি বলেন, ‘গ্রামের বহু বাসিন্দা শান্তিবেনের বাড়িতে এই প্রাণীগুলির উৎপাত বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি তার তীব্র বিরোধিতা করেন।’

বৃদ্ধ এই নারী বলেন, ‘ওদের ইচ্ছে হলে নিজেরাই এ বাড়ি ছেড়ে যাবে।’

২০১৫ সালে দিল্লীর এক বাসিন্দা তাঁকে নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন তাঁর এই অদ্ভুত বাদুড় প্রীতির জন্য।