ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা : ফেভারিট কে?



প্রথম ম্যাচেই পরাজয়ের। কলম্বিয়ার কাছে ০-২ গোলে হেরে যাত্রা শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে ফিরে দ্বিতীয় ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ড্র করে টুর্নামেন্টে টিকেছিল আকাশী-সাদারা।

শেষ ম্যাচে কাতারকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছিল আর্জেন্টিনা।

অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলের জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ভেনিজুয়েলার কাছে থমকে যায় ব্রাজিল। গোল শূণ্য ড্র হয় ম্যাচটি। সব শেষ ম্যাচে পেরুকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দেয় ব্রাজিল।

গ্রূপপর্বে ব্রাজিলকে রুখে দেওয়া ভেনিজুয়েলাকে ২-০ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা এবং প্যারাগুয়ের সাথে কোনোমতে বেঁচে যাওয়া ব্রাজিল নিশ্চিত করেছে সেমিফাইনাল। সেমিফাইনালে লড়বে একে অপরের সাথে।

ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা? কে জিতবে সেমিফাইনাল? দুই দলের মধ্যে ফেভারিট কে? বর্তমান পারফরম্যান্সের বিচারে আর্জেন্টিনার থেকে অনেক এগিয়ে থাকা ব্রাজিলকেই এগিয়ে রাখছেন অনেকেই।

তবে মেসি বলছেন ভিন্ন কথা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে পিছিয়ে নেই তার দল। তিনি মনে করেন, সুপার ক্লাসিকোতে কোনো দলই ফেভারিট নয়। দিনটি যার হবে, জিতবে সেই।

মেসি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচে কে ফেবারিট, সেটা বলা কঠিন। বিশেষ করে এবারের কোপা আমেরিকার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আরও সত্য, এখানে সবাই সবাইকে হারানোর সামর্থ্য রাখে।’

তবে শক্তিশালী ব্রাজিল নিজেদের দিনে কি করতে পারে জানেন মেসি। তাই তিনি আরও সাবধানী হতে হবে বলে জানান, ‘আমরা জানি, ব্রাজিলের খেলোয়াড়েরা কী করতে পারে। ব্রাজিল ম্যাচের আগে আমরা বেশ ভালো ফর্মে আছি। কিন্তু আমাদের অনেক মনোযোগী থাকতে হবে।’

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ মানেই ফুটবল দুনিয়ায় উত্তেজনা, বাড়তি আকর্ষণ। এই আকর্ষণে হারতে চাইবে না কোনো দলই। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরোও চাননা হারতে। দেশের সম্মান রক্ষার্থে জিততেই হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেছেন, ‘জার্সির সম্মান রক্ষা করতে আমরা আমাদের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করব, যেমনটা আজ করেছি। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচ প্রতিদিন হয় না। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে তো আরও হয় না। এ ম্যাচ নিয়ে সবার প্রত্যাশা থাকে আকাশচুম্বী। শুধু আমাদের দেশেই নয়, গোটা বিশ্বে।’

অবশ্য ম্যাচটা যে সহজ হবে না জানেন তিনি। সেই কঠিন কাজকেই সহজ করার প্রত্যয় তাদের মাঝে।

গত দুই কোপা আমেরিকার ফাইনালে খেলেছিল আর্জেন্টিনা। দুইবারই চিলির কাছে টাইব্রেকারে হেরে স্বপ্ন ভঙ্গ হয় মেসিদের।

এবারের ভঙ্গুর দল নিয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে মারাকানা স্টেডিয়ামে জয় পেতে যে কষ্ট হবে তা বলাই বাহুল্য।

এই মারাকানাতেই ২০১৪ বিশ্বকাপে শেষবার সেমিফাইনাল খেলছিল ব্রাজিল। সেখানে জার্মানির বিপক্ষে ৭-১ গোলের পরাজয় হয়ত আজো দুঃস্বপ্নের মতো তাড়িয়ে বেড়ায় সাম্বা রাজাদের।

কে জিতবে এই মহারণ? আর্জেন্টিনা কি পারবে নিজেদের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে? নাকি ব্রাজিল মারাকানার সেই দুঃস্বপ্ন ভুলে এগিয়ে যাবে?

জানতে হলে দেখতে হবে আগামী বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৬.৩০ মিনিটে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সেমিফাইনালের ধ্রুপদী লড়াই।