ভারতে বানানো কাশির সিরাপ নিয়ে ডব্লিউএইচওর সতর্কতা


ভারতে বানানো কাশির সিরাপ নিয়ে ডব্লিউএইচওর সতর্কতা


গাম্বিয়ায় ৬৬ শিশুর মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার সন্দেহে ভারতে বানানো ৪টি কাশির সিরাপের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। মেইডেন ফার্মাসিউটিকেল নামের কোম্পানির তৈরি ওই সিরাপগুলোর বিক্রি বন্ধ রাখতে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে পরামর্শও দিয়েছে তারা।

বুধবার বৈশ্বিক সংস্থাটির মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস ডব্লিউএইচও এমন ধারণা পেয়েছে বলে জানান।

পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে কিডনি জটিলতায় কয়েক ডজন শিশুর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শেষে ডব্লিউএইচও এই সতর্কতা জারি করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন সিরাপগুলোর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেইডেন ফার্মাসিউটিকেল ও ভারতীয় কর্তপক্ষকে নিয়ে এ ব্যাপারে আরও তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ থাইল্যান্ডে ডে–কেয়ার সেন্টারে গুলি, শিশুসহ নিহত ৩৮

তবে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ এখনও ডব্লিউএইচও-র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সতর্কবার্তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে একাধিক ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, ঘটনা সম্বন্ধে অবগত হয়ে ২৯ সেপ্টেম্বরই এ নিয়ে তদন্তে নেমেছে ভারতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তারা ডব্লিউএইচও-র কাছে তাদের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনও চেয়েছে।

মেইডেন ফার্মাসিউটিকেলের চারটি সিরাপের সঙ্গে আফ্রিকার দেশটির শিশুমৃত্যুর যোগসাজশ থাকতে পারে- ওষুধগুলোর নমুনা পরীক্ষা করে দেখার পর

তারা যে চারটি সিরাপ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে, সেগুলো হল- প্রোমেথাজাইন ওরাল সল্যুশন, কোফেক্সমালিন বেবি কফ সিরাপ, ম্যাকফ বেবি কফ সিরাপ ও ম্যাগ্রিপ এন কোল্ড সিরাপ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সিরাপগুলোতে অনুনমোদিত মাত্রার ডাইইথিলিন গ্লাইসল ও ইথিলিন গ্লাইসল পাওয়া গেছে বলে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষায় উঠে এসেছে। অতিরিক্ত মাত্রার ডাইইথিলিন গ্লাইসল ও ইথিলিন গ্লাইসল মানুষের জন্য ক্ষতিকারক এবং শরীরে নেওয়ার পর তা মৃত্যু ডেকে আনতে পারে। এসব সিরাপ এখন পর্যন্ত গাম্বিয়াতে মিললেও তা কালোবাজারিদের মাধ্যমে অন্য দেশেও চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা ডব্লিউএইচও-র।

আফ্রিকার দেশগুলোর বেশিরভাগ ওষুধও ভারত থেকে রপ্তানি হয়। বিশ্বে যত ওষুধ লাগে তার এক তৃতীয়াংশই ভারতে বানানো হয়; দ্রুত বর্ধনশীল কিছু ফার্মাসিউটিকেল কোম্পানির কারণে দেশটি বিশ্বের ফার্মেসি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।