মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে লিঙ্গ বৈষম্যের ২৩৮ অভিযোগ



মাইক্রোসফট করপোরেশনের নারী কর্মীরা লিঙ্গবৈষম্য ও যৌন নিপীড়ন বিষয়ে ২৩৮টি অভিযোগ করেছেন। ২০১০-১৬ সালের মধ্যে তারা এসব অভিযোগ করেন। গত সোমবার প্রকাশিত আদালতের একটি নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এসব অভিযোগে দাবি করা হয়, মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি কৌশলে নারী কর্মীদের বেতন বাড়ানো ও পদন্নোতির বিষয় এড়িয়ে চলে। তবে বিশ্বের বৃহৎ সফটওয়্যার কোম্পানিটির দাবি, তাদের প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নীতি মেনে চলা হয় না।
গত সোমবার আদালত সূত্রে মাইক্রোসফটের মানবসম্পদ বিভাগের বেশকিছু কর্মকাণ্ডের তথ্য জানা গেছে। যৌন নিপীড়ন কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়ে মাইক্রোসফটের বেশকিছু প্রভাবশালী নারী কর্মী প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে গেছেন। আবার অনেককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এসব কারণে ২০১৫ সালে সিয়াটলের ফেডারেল আদালতে দায়ের হওয়া মামলাটি বিপুলসংখ্যক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে।
বাদীপক্ষের অ্যাটর্নি একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলা নিয়ে আগানোর চেষ্টা করছে, যেখানে আট হাজারের বেশি নারীর অংশগ্রহণ থাকতে পারে। বাদীপক্ষের অ্যাটর্নি এত বিপুলসংখ্যক অভিযোগ ও মাইক্রোসফটের কর্মকাণ্ড নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন।
প্রতিটি কোম্পানি সাধারণত অভ্যন্তরীণ বৈষম্যের অভিযোগের তথ্য গোপন রাখার চেষ্টা করে। এ কারণে মাইক্রোসফটের কাছে নারী কর্মীদের পক্ষ থেকে কত অভিযোগ এসেছিল, তার প্রকৃত তথ্য জানা সম্ভব হবে না।
মাইক্রোসফট জানায়, গত বছর শেষে তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭৩ হাজার মার্কিন কর্মী রয়েছে। তারা প্রতিষ্ঠানে বৈচিত্র্য আনতে প্রতি বছর ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করে।
মাইক্রোসফটের তথ্যমতে, বেতন পরিশোধ কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যা রয়েছে, বাদীপক্ষ তার একটি উদাহরণও দিতে পারবে না। এ ধরনের অভিযোগ ওঠার পর মাইক্রোসফট বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানের নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে, এমন প্রমাণ পায়নি।
ক্লাস অ্যাকশন মামলার বিষয়ে বাদীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জেমস রবার্ট এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।
ফেডারেল আদালতের মামলার নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০০৬-১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানির হাজার হাজার নারী কর্মী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। তবে কোম্পানিগুলো এ ধরনের অভিযোগ উঠলেও তা লুকানোর চেষ্টা করেছে।