মাছের চামড়ার ব্যাগ, ওয়ালেট, জুতা, হ্যাট ও জ্যাকেট!



উনি আরেকজন, নাম নিউটন ওয়াইনো। বসবাস করেন কেনিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে। এই নিউটনের আবিষ্কার, মছের চামড়ার হাতব্যাগ, ওয়ালেট, জুতা, হ্যাট ও জ্যাকেট ইত্যাদি।
৩৯ বছর বয়সী এই শিল্প রসায়নবিদ মাছের চামড়া থেকে ফ্যাশনপণ্য তৈরি শুরু করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত অ্যালিসন প্রডাক্টস মাছের চামড়া আলাদা করার কাজ করে থাকে। তারপর ওই চামড়া থেকে হাতব্যাগ, ওয়ালেট, জুতা, হ্যাট ও জ্যাকেট তৈরি করা হয়।
লেক ভিক্টোরিয়ার তীরবর্তী কিসুমু মত্স্যশিল্পের জন্য একটি সমৃদ্ধ স্থান। এখানে গ্রিলড তেলাপিয়া ও নাইল পার্চ খুব সুস্বাদু খাবার। এখানকার মাছের ফিলে বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণে রফতানি হচ্ছে। তবে এখানে মাছের উচ্ছিষ্টের মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পান ওয়াইনো। কিসুমুতে প্রতি বছর মত্স্য উচ্ছিষ্ট তৈরি হয় ১ লাখ ৫০ হাজার টন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই ফেলে দেয়া হয়। ওয়াইনো ও তার কর্মীরা এখানেই সুযোগ খুঁজে পেয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘এখানে আমার প্রধান ব্যবসা হচ্ছে মাছের ত্বককে চামড়ায় পরিণত করা’। পলো শার্ট ও গামবুট পরিহিত ওয়াইনো তার ইয়ার্ডে হাঁটছিলেন আর বলছিলেন, ‘আমরা এখানে প্রচুর কাঁচামাল পাই।’

জেলেপল্লী, রেস্টুরেন্ট ও কারখানা থেকে বাইসাইকেলে করে পরিবহনকারীরা প্রতিদিন বস্তার পর বস্তা মাছের চামড়া নিয়ে আসেন ওয়াইনোর ছোট কারখানায়। সেখানকার শ্রমিকরা চামড়ায় লেগে থাকা মাছ ছাড়িয়ে নেয়। তারপর সেগুলো কাঠের বিমে শুকানোর জন্য ছড়িয়ে দেয়, যেভাবে কাপড় শুকানো হয়। শুকনো চামড়া এরপর একটি অ্যাসিডিক হারবালযুক্ত ড্রামে রেখে দেয়া হয়। স্থানীয় ফল, যেমন— পেঁপে ও অ্যাভোকাডো থেকে ওই হারবালটি তৈরি হয়। ড্রামে কষিয়ে ওই মাছের চামড়াগুলো চামড়ায় পরিণত করা হয়।
ক্রেতারাও এতে খুব খুশি, এক ক্রেতা বলেন, ‘আমি যখন মাছের চামড়ায় তৈরি জুতা পরি, ক্যাপ পরি এবং গায়ে জ্যাকেট লাগাই, তখন খুব ভালো লাগে! আমার গর্ব অনুভব হয়।’
মাছের চামড়া থেকে নির্মিত জুতা বিক্রি হয় ১ হাজার ৫০০ শিলিংয়ে (১৫ ডলার) আর জ্যাকেট বিক্রি হয় ২ হাজার শিলিংয়ে (২০ ডলার)।
আরও পড়ুন;

‘অপহরণকারীকে প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছিলাম’

সুখী হতে তার ক্লাসে সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ে

জ্যাক মা’র আইডল মাহাথির মোহাম্মদ

আমাজান ক্লাউডে বাংলাদেশের শামীম