‘এসো হাতে হাত রাখি, মানব সেবায় নিয়োজিত থাকি’


hosenpur help

হোসেনপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার একটি গ্রাম। শহীদ মিয়া এই গ্রামের একজন বাসিন্দা। ভালোই চলছিলো তার সংসার। কিন্তু হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। ভারি কাজ আর করতে পারেন না, এদিকে সংসারের হাল ধরার মতোও কেউ নেই। পরিবারের সবার পেটে খালি হওয়ার সাথে সাথে যেনো পাল্লা দিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েই চলছে। এমন কিছু কি করা যায় যাতে পরিবারও চলে নিজেরও শরীর বাঁচে? উপায় তো আছে যেমন অটোরিকশা চালানো, কিন্তু কেনার টাকা কোথায়…

বিষয়টি জানতে পারলো একটি সংগঠন। তারা বাড়িয়ে দিলো সাহায্যের হাত। অটোরিকশা চালিয়ে এখন ভালোই চলছে শহীদ মিয়ার সংসার।

সংগঠনটি এই গ্রামের মানুষের বিপদের সাথী। বাবুল মিয়ার চিকিৎসায় টাকা প্রয়োজন ওরা টাকা নিয়ে হাজির, এক বিধবা মায়ের থাকার ঘরটি ভেঙে গেছে ওরা এসে ঘর নির্মাণ করে দিলো। কাউকে অটোরিকশা, কারো ঘর তুলে দেয়া, কাউকে গরু কিনে দেয়া, কারো চিকিৎসা খরচ দিচ্ছে সংগঠনটি।

‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারেনা’ এই গানটি সবার প্রিয় হলেও এই গানের কথা গুলো অনুসরণ করার মত মানুষের বড্ড অভাব। এখনকার সমাজের বেশিরভাগ মানুষ সবাই নিজেই নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত।

সমাজের অন্য মানুষগুলো কি করে জীবনযাপন করছে তা নিয়ে কারো মাথা ঘামানোর বিন্দুমাত্র সময় নেই। ঠিক এই সময়ও কিছু তরুণ, নবীন, নির্ভীক দামাল ছেলে এগিয়ে এসেছে তাদের সমাজকে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও একটুখানি সাহায্য করতে। দারিদ্রতা মিটিয়ে যেনো সবাই পরিবার নিয়ে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে তার ব্যবস্থা করে দিতে।

সেই মানুষগুলো আর কেউ নয়, আমাদের দেশের অন্যতম চালিকাশক্তির অংশীদার, আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। বিদেশের মাটিতে থেকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে তাদের সমাজের কিছু অসহায় পরিবারের প্রতি।

পেপার’স লাইফকে সংগঠনটির তরুণ সদস্য আতিফ মাহমুদ জানান, ‘এসো হাতে হাত রাখি, মানব সেবায় নিয়োজিত থাকি’ এই স্লোগানকে সামনে নিয়ে আমাদের সামাজিক সংগঠন ‘হোসেনপুর সমাজ কল্যাণ সংগঠন’-কে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এই সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক,অলাভজনক ও স্বাধীন একটি সামাজিক সংগঠন।

সংগঠনের উদ্দেশ্যে এবং কার্যক্রম সমন্ধে জানতে চাইলে সংগঠনটির প্রধান উদ্যোক্তা মো. কাউছার বলেন, আমরা চাই হোসেনপুর তথা তাদের গ্রামসহ আশেপাশের প্রতিটি গ্রামের দারিদ্র্য দূরীকরণ ও ক্ষুধামুক্ত আদর্শ গ্রাম বা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে।

এ বিষয়ে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খবির আলি বলেন, ‘হোসেন পুর সমাজ কল্যাণ সংঘঠন’ একটি নাম, একটি স্বপ্ন। আমরা স্বপ্ন দেখি সুন্দর একটি পৃথিবীর, শুরুতেই চাই নিজেদের পরিবর্তন করে ঐক্যবদ্ধ হতে সেই পৃথিবীর জন্য কাজ করার উদ্যেশ্যে। সংগঠনটিতে প্রবাসীদের পাশাপাশি গ্রামের কিছু শিক্ষিত যুবকরাও বিভিন্নভাবে ভাবে সাহায্যে সহযোগিতা করে থাকেন।

জানা গেছে, গত এক বছরে সংগঠনটি তাদের গ্রাম ও আশেপাশের গ্রাম মিলিয়ে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে মোট-৩,৮২,৩৫৫ (তিন লক্ষ বিরাশি হাজার তিন শত পঞ্চান্ন) টাকার।


‘হোসেনপুর সমাজ কল্যাণ সংগঠন’-এর নানা কার্যক্রমের একাংশ

তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. জাকির বলেন, ‘সবার সম্মিলিত মতামত এবং পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ভাবে অংশগ্রহণ এর মাধ্যমে দেওয়া হয় সকল অনুদান। সংগঠনের কোনো কাজের উদ্দেশ্যে টাকা-পয়সা দেওয়ার জন্য কাউকে কোনো প্রকারের চাপ দেওয়া হয় না,সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন সাহায্যে প্রদান করছেন।

সংগঠনটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ৭০ জন। ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি অনেক গুলো উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন যা গ্রামবাসী সহ আশেপাশের সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সলিমাবাদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, ‘তাদের এই কার্যক্রম নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, তারা যদি কখনো আমার কাছে কোনো সাহায্যে সহযোগিতা চায় তাদের জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা থাকবে’।

সংগঠন এর প্রধান উপদেষ্টা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন আমরা যেনো আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটিকে সুন্দর ভাবে সারাজীবন চালিয়ে যেতে পারি, অসহায় পরিবারগুলোকে সব সময় সাহায্য-সহযোগিতা করতে পারি।

এমন একটি সংগঠন পরিচালনায় কি কি প্রয়োজন এমন প্রশ্নের জবাবে সংগঠনটির সভাপতি মো. মাইনুদ্দিন বলেন, একটি সামাজিক সংগঠন গড়তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে একতা, ঐক্যবদ্ধতা। প্রয়োজন জনসংযোগ এবং কাউকে সাহায্য করার চরম মানসিকতার। পরিশেষে একটা কথাই বলব, সঠিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেলে সামাজিক সংগঠন সত্যিকার অর্থেই সমাজের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আমদের সকলের উচিৎ পদবীর লোভ বিসর্জন দিয়ে, সম্মাননা উপাধী বাণিজ্যের কথা চিন্তা না করে; সত্যিকার উন্নয়নমূলক কাজের সংকল্প নিয়ে কাজ করা।