‘মুরগির বাচ্চাটাকে চিকিৎসা দাও’



সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে একটি নাম খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ত্রিপুরার পাহাড়ী এলাকায় ছয় বছরের ডেরেক সি লালহানমিয়া এখন পরিচিত মুখ।

ডেরেক সি লালহানমিয়া মিজোরাম রাজ্যের অধিবাসী। ছয় বছরের এই শিশু উঠোনে সাইকেল নিয়ে খেলা করছিল। ঐ সময় সাইকেলের চাপায় প্রতিবেশীর একটি মুরগির বাচ্চা আহত হয়। কোনোরকম কিছু না ভেবেই মুরগির বাচ্চাটিকে নিয়ে নিকটতম স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছুটে যায় ডেরেক।

ডেরেকের কাছে থাকা ১০ রুপির নোটটি বাড়িয়ে দেয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের লোকের কাছে আর অনুরোধ জানায় মুরগির বাচ্চাটিকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য।

সেখানে কেউ একজন মুরগির বাচ্চাটি হাতে ডেরেকের ছবি তুলে। ডেরেকের এই ঘটনা মাত্র ২৪ ঘন্টায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে শেয়ার হয়েছে ৪০ হাজারের বেশি।

প্রচলিত আছে, মিজোরাম রাজ্যে দু-একটা কুকুরের দেখা মিললেও পাখিদের দেখা যায় না। কারণ কুকুর ও পাখিদের মাংস মিজোদের খুব পছন্দ।

মিজোরামের গ্রামগুলো দেখলেই দেখা যায় ছোট বয়স থেকেই ছেলেরা গুলতি হাতে ঘুরে বেড়ায় পাখি শিকারের জন্য। সেখানে ডেরেকের এই প্রাণিপ্রেম সত্যিই প্রশংশনীয়।

ডেরেকের বেড়ে উঠা ত্রিপুরার পাহাড়ি এলাকা অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। এখানে বারো মাসই বসন্ত। বসন্তের আমেজ থাকা সত্তেও খুব একটা পাখি চোখে পড়ে না। এখানেও মিজোরেদের বসবাস।

ছয় বছর বয়সী এই শিশু ডেরেকের গ্রাম সাইরাঙ। আয়তনে খুব একটা বড় নয়। কিন্তু এই ছোট্ট গ্রামের ছোট্ট ডেরেকেই এখন বিশ্বব্যাপী সমালোচিত। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রশংসার ঝুড়ি কুড়াচ্ছে ছোট্ট এই ডেরেক।