মৃত্যুর ওপাড়ে



সাবিলা আলাউদ্দিন আখি

সীমন্তিনী প্রায়ই শিহরিত হয়ে ওঠে মৃত্যুর কথা ভেবে। কিন্তু রোজই তো মৃত্যুর সাথে চলতে হয়।

সীমন্তিনীর বন্ধু বকুল রোজ একসাথে ক্যাম্পাসে যায় আসে। দুজনের ডিপার্টমেন্ট আলাদা। তাতে কি তাদের পথচলা একসাথে। একজনের ক্লাস হয়ে গেলে অন্যজন অপেক্ষা করে। কোনদিন এর ব্যতিক্রম হয় না।

বকুল একদিন হঠাৎ করে বলল, ‘ক্যাম্পাস জীবন শেষ করে চাকরী জীবনেও আমরা এভাবে থাকবো। আর মাত্র কটাদিনের ব্যাপারই তো।’

সীমন্তিনী কি যেন ভাবছিলো! বকুলের ধাক্কায় হুঁশ ফিরলো। সীমন্তিনী বলল, ‘কি হয়েছে?’
বকুল বলল, ‘তার মানে তুই আমার কোন কথাই শুনিস নি।’ এই বলে গাল ফুলালো। সীমন্তিনী জানে কি করে রাগ ভাঙাতে হয়।

সীমন্তিনী সুরসুরি দিয়ে উঠল বকুল হাসছে আর বলছে, ‘ভালো হবে না কিন্তু।’

সীমন্তিনী এবার জানতে চাইল, ‘কি বলেছিল?’ বকুল লক্ষ্মী মেয়ের মত আবার রিপিট করল। সাথে এটাও বলল, ‘আমরা এক বাড়ির দুই ভাইকে বিয়ে করব।’

সীমন্তিনী সব শুনে বলল, ‘সব হবে, আর আমি যদি না থাকি তবে কি করে হবে?’
বকুল সাথে সাথে বলল, ‘কই যাবি? আমিতো তোকে যেতেই দিব না।’
সীমন্তিনী বলল, ‘হু, আমি চলে গেলে আমার স্বপ্ন পূরণ হবে কি করে। ‘ এই বলে দুই বন্ধুর হাসাহাসি।

যথারীতি দুই বন্ধু ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে বের হল। রাস্তার অবস্থা দেখে সীমন্তিনী বলল, ‘আমার এখন রাস্তায় চলতে ভয় হয়।’
বকুল বলল, ‘যা তা বলিস না।’
এই বলে ওরা বাসে উঠল।
সীমন্তিনী বলল, ‘জানিস বকুল? আমার মরতে ভীষণ ভয় হয়। মৃত্যুর ওপারে কি আছেরে? কীভাবে একলা থাকবো তোদের সবাইকে ছেড়ে?’
বকুল বলল, ‘তোকে একা থাকতে হবে না।’ এই বলে সীমন্তনীর কানে নিজের ইয়ারফোনের একটি অংশ গুঁজে দিয়ে বলল, ‘আজাইরা প্যাচাল বাদ দিয়ে গান শোন।’

সীমন্তিনী গান শুনতে শুনতে এই জ্যামের শহরে মাথা হেলিয়ে দিল বকুলের কাঁধে।

ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর যে যার ডিপার্টমেন্টে চলে গেল।
ক্লাস শেষে বকুল বসে আছে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে। সীমন্তিনী আসলো আরও আধঘন্টা পরে।

ক্যাম্পাসের বাইরে এসে দেখলো কি একটা ঝামেলা হয়েছে রাস্তায় গাড়ি কম।

অনেকক্ষণ যাবত দাঁড়িয়ে আছে ওরা। হঠাৎ একটি বাস দেখতে পেল ওরা হাত দিয়ে ইশারা করল বাসে উঠবে। বকুল উঠল সীমন্তিনীর আর উঠা হল না।

সীমন্তিনী উঠতে যাবে তখনই পাশ দিয়ে আর একটি ঘাতক বাস সীমন্তিনীর ওপর দিয়ে চলে গেল সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিল মুহূর্তেই। থামিয়ে দিল দুই বন্ধুর একসাথে পথচলা।