যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছে না হুয়াওয়ে



চীনা প্রযুক্তি কোম্পানি হুয়াওয়ের টেলিকম সরঞ্জাম ও ডিভাইসকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের চাপের কারণে স্মার্টফোন বিক্রি বিষয়ে এটিঅ্যান্ডটি ও ভেরাইজনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি হুয়াওয়ে।
চীনা প্রতিষ্ঠানটির টেলিকম সরঞ্জাম না কিনতে টেলিকম অপারেটরদের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাজারে এমন প্রতিবদ্ধকতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হুয়াওয়ে।
সম্প্রতি প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদ সাইট সিনেটকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে হুয়াওয়ের কনজিউমার বিজনেস গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিচার্ড ইউ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ছেড়ে যাচ্ছে না হুয়াওয়ে। কারণ দেশটির বাজারের প্রতি আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ রয়েছি। বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমরা মার্কিন গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে চাই। আমরা কখনো বিশ্বাস ভঙ্গ করব না।
হুয়াওয়ে শুরুতে এটিঅ্যান্ডটির সহায়তায় মার্কিন ডিভাইস বাজারে ব্যবসা জোরদারের চেষ্টা করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। একই পথ অনুসরণ করে আরেক সেলফোন অপারেটর ভেরাইজন। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত সেলফোন অপারেটরদের মাধ্যমে ডিভাইস বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ ইলেকট্রনিকস খুচরা পণ্য বিক্রেতা বেস্ট বাই ইনকরপোরেশন গত সপ্তাহে হুয়াওয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। হুয়াওয়ের ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, স্মার্টওয়াচসহ প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের পণ্য বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেস্ট বাই। হুয়াওয়ের পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন প্রশাসন শঙ্কা প্রকাশের কারণে বেস্ট বাই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তথ্যমতে, হুয়াওয়ের টেলিকম সরঞ্জাম কিংবা ডিভাইস ব্যবহার করলে তথ্য চুরির আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পণ্য ব্যবহার করলে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে। কারণ প্রতিষ্ঠানটির ওপর চীন সরকারের প্রভাব রয়েছে। এর ফলে হুয়াওয়ের টেলিকম সরঞ্জাম ও ডিভাইস ব্যবহার করলে চীন সরকার মার্কিনিদের ওপর গোয়েন্দাগিরির সুযোগ পাবে। তবে রিচার্ড ইউ যুক্তরাষ্ট্রের এমন উদ্বেগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। এ বিষয়ে তারা আলোচনায় বসতে রাজি আছেন বলে তিনি জানান।
তবে রিচার্ড ইউ বলেন, বিশ্বের প্রায় অর্ধশত দেশে তাদের ব্যবসা রয়েছে। শক্তিশালী নিরাপত্তা নিয়ে তাদের রেকর্ড রয়েছে। কারণ নিরাপত্তার বিষয়টি তাদের কাছে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়লেও বৈশ্বিক বাজারে হুয়াওয়ের সাফল্য চোখে পড়ার মতো। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি ১৫ কোটি ৩০ লাখ ফোন বিক্রি করেছে। এ সময়ে মুনাফা বেড়েছে ২৮ দশমিক ১ শতাংশ। বৈশ্বিক বাজারে সাফল্য পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
সাক্ষাত্কারে হুয়াওয়ের সিইও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমরা পরিচিত ব্র্যান্ড নই— এ কথা আমরা অকপটে স্বীকার করছি। দেশটিতে আমাদের ব্র্যান্ড তৈরি করতে হবে। এজন্য আমাদের প্রথম কাজ হবে, দেশটির গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করা।
গত ফেব্রুয়ারিতে হুয়াওয়ের স্মার্টফোন না কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ছয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান। সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির এক শুনানিতে তারা এ আহ্বান জানান। শুনানির সময় চীনা টেলিকম সরঞ্জাম নির্মাতা হুয়াওয়ে ও জেডটিইর পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন সিআইএ, এফবিআই, এনএসএসহ ছয়টি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান। এসব প্রতিষ্ঠানের ডিভাইস বা সরঞ্জাম ব্যবহার করলে তথ্য চুরির আশঙ্কা করা হয়েছে। এ কারণে দেশটির নাগরিকদের চীনা প্রতিষ্ঠানের স্মার্টফোন না কিনতে পরামর্শ দেয়া হয়। শুনানির সময়ে এফবিআইয়ের পরিচালক ক্রিস রে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ খাতে এমন কোনো বিদেশী প্রতিষ্ঠানকে প্রবেশ করতে দেয়া উচিত হবে না, যাদের ওপর সে দেশের সরকারের প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে।
হুয়াওয়ের ভাষ্যমতে, বিশ্বের ১৭০টি দেশের সরকার ও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছে হুয়াওয়ে। অন্য প্রতিষ্ঠানের মতো তাদের পণ্যে বড় ধরনের সাইবার নিরাপত্তা ত্রুটি নেই। কারণ হুয়াওয়ে গ্রাহক নিরাপত্তার বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে।