যেখানে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বিশ্বাসের অট্টালিকা ! বইয়ের রিভিউ


যেখানে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বিশ্বাসের অট্টালিকা ! বইয়ের রিভিউ


বই: তৃতীয় রিপু (ক্রিকেটীয় কিন্তু ক্রিকেট নয়)

লেখক: সোমনাথ সেনগুপ্ত 

রিভিউ লিখেছেন : রেহনুমা রুবায়েত প্রাপ্তি 

প্রকাশনী: ঈহা (বাংলাদেশী প্রকাশক)

কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্য – এই ছয়টি রিপুকে বলা হয় ❝ষড়রিপু❞। এইগুলোকে সবসময় নিজের বশে রাখতে হয়। না হয় পরিণতি সুখকর হয় খুব কম ক্ষেত্রেই।

 

ᴛᴏ ᴍᴇ, ᴄʀɪᴄᴋᴇᴛ ɪs ᴀ sɪᴍᴘʟᴇ ɢᴀᴍᴇ. ᴋᴇᴇᴘ ɪᴛ ꜱsɪᴍᴘʟᴇ ᴀɴᴅ ᴊᴜsᴛ ɢᴏ ᴏᴜᴛ ᴀɴᴅ ᴘʟᴀʏ.

– 𝗦𝗵𝗮𝗻𝗲 𝗪𝗮𝗿𝗻𝗲

 

ক্রিকেট একটা সাধারণ খেলা হতে পারে, কিন্তু ক্রিকেট নিয়ে আবেগ উপমহাদেশের মানুষের কাছে সাধারণ না। অনন্য ভালোবাসার জায়গা হলো ক্রিকেট। ভারতে তো ক্রিকেট একটা ধর্ম আর খেলোয়াড়রা সে ধর্মের দেবতা প্রতিম। জেন্টেলম্যানের এই খেলার উৎপত্তি ইংল্যান্ডে হলেও বিশ্বজুড়ে এর খ্যাতি রয়েছে। ক্রিকেট আমাদের ভালোবাসা, আমাদের আবেগ। আজকে কোন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আছে মানে সব কাজ বন্ধ। কলেজ থাকলে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরার তাগিদ, অফিস থেকে সটান বাসায় এসে টিভি সেটের সামনে বসে ব্যাট বলের এই মহারোহ দেখার উৎসব। তথ্য প্রযুক্তির এই দিনে তো মুঠোফোনেই খেলা দেখা একদম ইজিপিজি ব্যাপার। নিজের দেশের খেলোয়াড়কে টাইগার বা সিংহ উপাধি দিয়ে দিই আমরা। প্রিয় দলের ম্যাচে গলা ফাঁটিয়ে সমর্থন দিই। গালে পতাকা এঁকে বা মাথায় পতাকা পেঁচিয়ে যাই প্রিয় দলের খেলাটা নিজ চক্ষে দেখতে। আহ! কি দারুণ এক ভালোবাসা ঘিরে থাকে এই ক্রিকেটকে ঘিরে। প্রিয় দল জিতে গেলে তাদের জন্য শুভকামনা আর খুশীতে ভেসে যাই। তেমনি হেরে গেলে রাগ ঝারি বলি, ❛ধুর, দেখবোই না আর খেলা❜। কিন্তু আবার নতুন ম্যাচ আসে পিছনের দুঃখ ভুলে আবার গলা মেলাই দেশের সমর্থনে। আবার বিপক্ষ দলের সাথে বাক বিতন্ডায় জড়িয়ে কতো কান্ডই না ঘটে। এই তো ভক্তদের সাধারণ আচরণ। এইতো আপামর ক্রিকেটপ্রেমী জনতার ক্রিকেট নিয়ে বিনোদন।

কিন্তু যাদের জন্য আমরা নিজেদের ভালোবাসা নিঃস্বার্থভাবে বিলিয়ে দিই, আবার কখনো নিজের ক্ষ তিও করে বসি- সেই ক্রিকেট আইকন বা ক্রিকেটপ্রেমী জনতার আইডলরা ঠিক কতটা ভাবে ভক্তদের জন্য? বা নিজ দেশের জার্সি গায়ে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করাকেই কি একমাত্র দায়িত্ব মনে করে না পুরোটাই শুভংকরের ফাঁকি?

অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডে ক্রিকেট বেটিং খুব সাধারণ একটা ব্যাপার। তবে ক্রিকেটপ্রেমী এই উপমহাদেশের কাছে ক্রিকেট বেটিং বা বাজি শব্দটা নতুন। ভক্তদের জন্য তো অবশ্যই নতুন। কিন্তু এই উপমহাদেশে ম্যাচ পাতানো ব্যাপারটা কবে থেকে? দুঃখজনকভাবে হলেও সত্যি একদম গোড়ার দিক থেকেই ম্যাচ পাতানো হয়ে আসছে। মাঠে দর্শক তার প্রিয় দলের সমর্থনে গলা ফাঁটিয়ে চেচাচ্ছে তো আপনারই পাশে কোন অসাধু ক্রিকেট বুকি ম্যাচ নিয়ে জু য়া খেলছে। আর তাতে সঙ্গ দিচ্ছে ঐ ২২ গজেই থাকা আপনার আমার কিছু প্রিয় ক্রিকেট আইকন।

বাংলাদেশে প্রথম এই ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ যার বিরুদ্ধে আসে সে প্রতিটা বাঙ্গালী ক্রিকেট ভক্তের প্রিয় নাম ❛মোহাম্মদ আশরাফুল❜। যে অস্ট্রেলিয়ার সাথে নিজের দাপুটে ব্যাটিংয়ে প্রায় একাই জিতিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। বিপিএল কেলেংকারিতে আশরাফুলের নাম তারার মতো জ্বলজ্বল করছিল। যদিও নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছিলেন এবং তার ফলও ভোগ করতে হয়েছে। এক হাতে তো তালি বাজে না, তাই এই ম্যাচ গড়াপেটায় আশরাফুল একা ছিলেন না। যারা তাকে সঙ্গ দিয়েছে তারা বেঁচে গেল কোনো এক অদৃশ্য সুতোর টানে।

দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সফল অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রোনিয়ে। তার ঘাড়েও একই অভিযোগ। ম্যাচ পাতিয়েছিলেন তিনি। তৃতীয় রিপুর বশীভূত হয়ে লাভের মুখ যেমন দেখেছিলেন তেমন তার মাশুলও চুকিয়েছিলেন নিজের জীবন দিয়ে। আরো কঠিন সত্য হয়তো জানা যেত, কিন্তু তার আগেই কার্গো দু র্ঘটনা তার মুখ চিরদিনের মতো বন্ধ করে দিয়েছে। আসলেই কি দু র্ঘটনা ছিল?

উপমহাদেশের ক্রিকেট বুকি দুনিয়া চালায় ভারত আর পাকিস্তানের বুকিরা। কাঁটাতারের শ ত্রুতা পেরিয়ে জুয়ার বন্ধনে এই দুই দেশ যেন সাত পাকে বাঁধা পড়েছে। ক্রিকেট বুকি আর জুয়ারিরা মাঠে ওত পেতে থাকে কাকে বাগানো যায় সুন্দর উপহার আর ❛ভক্ত হিসেবে ভালোবাসা❜ এর নামে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের হাতছানি দিয়ে।

ক্রিকেটে অনাকাঙ্ক্ষিত কান্ড, ম্যাচ ফিক্সিং এর গোডাউন বলা যায় পাকিস্তান ক্রিকেটকে। বলা হয় পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নাকি সহজেই খরিদ করা যায়। বাস্তবিক অর্থেও তাই। পাকিস্তান ক্রিকেটের পেস পাওয়ার দিয়ে বিপক্ষ ব্যাটিং শিবিরকে নাস্তানাবুদ করে দেয়ার মতো অনেক বোলার ছিল। কিন্তু সেই দলটার মাথা থেকে ❛আনপ্রেডিক্টেবল❜ এর তোকমাটা যাচ্ছেইনা। জেতা ম্যাচ অচিন্তনীয়ভাবে হার আবার হারা ম্যাচ অকল্পনীয় ভাবে জিতে যাওয়া এগুলো ঠিক কতোটা বাস্তব আর কতোটা অদৃশ্য সুতোর খেল? আসিফ-আমীর এর কথাই ধরা যাক। সেই নো-বল কান্ড। বাড়তি আয় আর দামী উপহারের টানে বিকিয়ে দিল নিজেকে, নিজের দেশকে আর আপামর দেশের সমর্থনকে। তরুণ প্রতিভাবান বোলার হিসেবে যে নাম কামাতে পারতো লোভে পড়ে সে হলো নির্বাসিত। সালমান বাট, উমর আকমল আরো কতো যে নাম আছে এই সারিতে। তাদের মধ্যে আছে আমার আপনার প্রিয় অনেক তারকার নাম। যাদের নাম শুনে চক্ষু ছানাবড়া থেকেও বড়ো কিছু হবার থাকলে হতে পারে। পাকিস্তান ক্রিকেটের সাথে গড়াপেটার এই দু র্নাম যেন মিটবেই না।

গড়াপেটা করতে পিছিয়ে নেই ভারত ক্রিকেটও। কপিল দেব, আজহারউদ্দিন, অজয় জাদেজা আরও কত ভারতবাসীর ক্রিকেট দেবতারা যে এই ফিক্সিংয়ের রোলে অভিনয় করে গেছেন। পুরো ক্রিকেট ভক্ত মানুষদের কাছেই যারা আদর্শ, উঠতি যেসব খেলোয়াড় তাদের মতো হতে চায় তারাও আদর্শ বিকিয়ে পাতিয়েছেন ম্যাচ। শ্রীশান্ত এর কথাই ধরি। দারুণ বোলার সাথে রাফ ব্যবহারের অধিকারী এই খেলোয়াড়ও দামী উপহার, লাক্সারী লাইফের কাছে নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছেন। পরিণামে পেয়েছেন নির্বাসন। কিন্তু বুকিরা কিন্তু বহাল তবিয়তে তাদের পরবর্তী শিকারের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। কোটি টাকার ব্যবসা হচ্ছে একটা ম্যাচকে ঘিরে। তাতে মদদ দিচ্ছেন রাঘবক-বোয়াল জাতীয় অনেক লোকেরা। অবশ্যই পর্দার আড়ালে।

আইপিএল কান্ড তো সব ক্রিকেট ভক্তেরই জানা। এ খেলায় ম্যাচ পাতানো হয়, হয় কোটি টাকার ব্যবসা। মাঠের কুশীলব থাকেন আমাদের ক্রিকেট আইকনেরা। গলার চেইন সামনে পেছনে করে, আকাশে তাকিয়ে বা রুমালের পরিবর্তন করে এরা সিগনাল দেন ❛নিজেকে ডুবাচ্ছি❜। ইচ্ছা করে হয় আউট হবো, না হয় আউট অফ নোহোয়ার লেংথের বল করে ব্যাটসম্যানের পিডানী খাবো। ওদিকে হয়ে যাবে ক্রিকেট জু য়া রিদের দর পতন বা কারো কারো লাভ। কী সুন্দর না? নিজের ইনকামের অর্থ দিয়ে আমরা সাজানো নাটক দেখতে যাই গ্যারালিতে।

ক্রিকেট শুধু জু য়া তেই থেমে নেই। এর সাথে জড়িয়ে আছে রাজনীতি, ব্যবসা এমনকি ক্রা ই ম ও। নিজের অনুশচনায় যদি সব স্বীকার করে, এতেই তো আতে ঘা লাগবে বড়ো সব জু য়া রির। পিঠ বাঁচাতে তাই খু ন করতেও এক মিনিট ভাবে না ক্রিকেট বুকিদের হর্তা কর্তারা। ঠিক কতো বড়ো তাদের হাত চিন্তা করা যায়?

তো এইযে ভদ্দরলোকের খেলাকে ঘিরে এতো কু ৎসিত কাজ হয় বিচার হয়না? বা কেউ আগে থেকে টের পায় না? পায় তো। কিন্তু এতো এতো বুকি, আর রাঘব-বোয়ালদের ভিড়ে বিচার সংস্থার কাজ করাটাই একটা চ্যালেঞ্জ। আকসু, মগদুল, সিবিআই অনেক প্রমাণ জোগাড় করা স্বত্তেও ঐ অদৃশ্য হাতের ইশারায় অনেক কেসই কার্পেটের নিচে চলে যায়। নানা দেশে একই সময়ে চলে অনেক খেলা। কয়জনকেই বা নজরে রাখা যায়। ভারপ্রাপ্ত আকসু প্রতিনিধি তো বলেইছিলেন, ❛𝐈 𝐜𝐚𝐧𝐧𝐨𝐭 𝐛𝐞 𝐢𝐧 𝐞𝐯𝐞𝐫𝐲 𝐡𝐨𝐭𝐞𝐥, 𝐚𝐭 𝐞𝐯𝐞𝐫𝐲 𝐦𝐚𝐭𝐜𝐡❜.

এভাবেই যে কয়টা চোখে পড়ছে, অকাট্য প্রমাণ মিলছে তাদের ধর পা কড় আর সাজা দিয়েই ক্রিকেট চলছে। সাথে একইতালে চলছে পর্দার আড়ালে ক্রিকেট ম্যাচ গড়াপেটা। আর আমরা দর্শক দল জিতে গেলে খুশিতে নাচছি, আবার হেরে গেলে চোখের জলে ভেসে যাচ্ছি। কেউ কেউ আবার হার মেনে নিতে না পেরে স্ট্রো ক করে ভব লীলা সাঙ্গ করছেন, কেউ রা গ সামলাতে না পেরে টিভি ভাং চুর করছেন। ওদিকে জু য়ায় জেতার আনন্দে আমাদের আইডলেরা ককটেল পার্টি করছে। আমাদের দুঃখে তাদের থোরাই কেয়ার।

পাঠ প্রতিক্রিয়া:

আসলে প্রতিক্রিয়া নেই। ক্রিকেটকে জান-প্রাণ, কলিজা-ফ্যাপসা দিয়ে ভালোবাসেন এমন কেউ এই বই থেকে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখুন। বইতে কী আছে সেই লোভে পড়তে গেলে নিজের রিস্কে পড়েন।

লেখক অনেক অনুসন্ধান, গবেষণা করে ২৮৮ পৃষ্ঠার এই বিষাদ সিন্ধু রচনা করেছেন। বিশ্বাস তো আগেই একবার ভেঙ্গেছিল যখন জেনেছিলাম ❛শাবানা-আলমগীর স্বামী-স্ত্রী নয়❜। এই বই পড়ে আবারো বিশ্বাস টুকরো হলো, ❛ℂ𝕣𝕚𝕔𝕜𝕖𝕥 𝕔𝕒𝕟 𝕟𝕖𝕧𝕖𝕣 𝕓𝕖 𝕒 𝕘𝕖𝕟𝕥𝕖𝕞𝕒𝕟’𝕤 𝕘𝕒𝕞𝕖❜.

বইটাকে লেখক বেশ কয়েকটা অধ্যায়ে ভাগ করেছেন। কীভাবে ক্রিকেট বেটিং হয় সে সম্পর্কে ধারনা দিয়েছেন। এরপর ক্রিকেট বেটিংয়ের সাথে জড়িত নানা বিষয় নিয়ে লিখেছেন। প্রতিটা পৃষ্ঠা পড়ছিলাম আর বিশ্বাসের ভীত নড়ে যাচ্ছিল। আম্বুজা সিমেন্টও পারেনি বিশ্বাসের দেয়াল অটুট রাখতে। যে খেলার প্রতি ভালোবাসায় একটা সময় বাসায় না জানিয়ে নিজেই ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হয়ে গিয়েছিলাম ভবিষ্যৎ ক্রিকেট নিয়ে গড়তে সে ক্রিকেট নামক প্রদীপের নিচে ঠিক কী পরিমাণ কলুষিত অন্ধকার থাকতে পারে সে সত্য জেনে কেমন লাগতে পারে আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এখন মনে হয় ২২ গজের মাঠ ছেড়ে আসার সিদ্ধান্তটা হয়তো ভুল ছিল না।

ভক্তের আবেগ যেখানে বিক্রি হয়ে যায় ম্যাচের প্রতিটা ওভারে। সেই খেলার প্রতি পরবর্তীতে আসলে মনোভাব কেমন হবে জানি না। ধাক্কা লেগেছে খুব বড়ো ধাক্কা লেগেছে যখন পড়েছি, ৯৯ এর পাকিস্তান ব ধ শুধুই ছিল একটা নাটক। একটা পাতানো ম্যাচ। পাকিস্তান ক্রিকেটের অনেক খেলোয়াড় জড়িত ছিল ম্যাচ পাতানোয়। জিতিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশকে। বিশ্বাস ঠিক এখনও করতে পারি না। হয়তো বিশ্বাস রয়েই গেছে, না এটা পাতানো নয়। হতেই পারে না।

একটা টানটান উত্তেজনার ম্যাচ মুহুর্তে ঘুরিয়ে দেয়ার সময় আমরা যেমন বলতে গেলে হার্ট হাতে নিয়ে বসে থাকি। প্রতিটা সেকেন্ডে থ্রিল। এই বুঝি কী হয়। কিন্তু আদতে সেই উত্তেজনার দৃশ্যটাও উচ্চমানের কোন থ্রিলার সিনেমার মতোই ❛অভিনয়❜। বেস্ট প্লেয়ার ফর্মে নেই, রান পাচ্ছে না, উইকেট পাচ্ছেনা? আহা কী খারাপ লাগে না? কিন্তু তার কারণ যে মাঝে মাঝে বা অনেকক্ষেত্রেই হয় ❛টাকার বিনিময়ে খারাপ খেলা❜ এই চিন্তা তো মাথাতেই আসে না। আসলেই কি ❛Form is temporary, but class is permanent❜? না পুরোটাই রোলেক্স ঘড়ি, সুন্দরী নারীর সঙ্গ আর দামী গাড়ির সাথে সম্পর্কিত?

সত্যিই আমি বিস্মিত। এক দুইটা খেলা হয়তো পাতানো যায়, ইচ্ছে করে খারাপ খেলা যায় এটা বিশ্বাস করি বা করতাম। কিন্তু আদতে ব্যাপারটা যে পুরো উলটো এইটা বিশ্বাস করতে আসলেই বেগ পেতে হয়েছে। লেখক অসাধারণভাবে ক্রিকেট এর কালো দিকগুলো তুলে এনেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ দিবো না বিশ্বাস ভেঙ্গে দেয়ার জন্য রাগ ঝারবো কোনটা করা উচিত জানি না।

তবে এতো অসাধারণ লেখার মাঝেও কিছু এলাচি ছিল। সেগুলো বলছি,

১. ধর্ম খুব সেন্সিটিভ ব্যাপার। তাই সেটা ফিকশন হোক আর নন ফিকশন সবখানে একটু সচেতনভাবে হ্যান্ডেল করা উচিত। ইনজামামুল হকের সাথে বব উলমারের একটা ঘটনার বর্ণনায় লেখক ইনজামামুলের ভাষ্যে ❛ঈশ্বর❜ এবং ❛ভগবান❜ শব্দের প্রয়োগ করেছেন। আমার কাছে ব্যাপারটা যথেষ্ট দৃষ্টিকটু লেগেছে।

২. মাশরাফিকে নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন লেখক। আমার জানামতে মাশরাফি বিপিএলের ব্যাপারটা ক্লিয়ার করেছিলেন। ডিটেল মনে নেই তবে নিয়ম মেনেই কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন।

৩. ২৬২ পৃষ্ঠায় মসজিদ মন্দিরের ছবির সাথে খেলোয়াড়দের সমান মর্যাদা দেয়া কথাটাও জুতসই লাগেনি।

এছাড়াও বাক্য গঠনে বেশ কিছু জায়গায় সমস্যা ঠেকেছে। একই শব্দের ব্যবহার একই লাইনে প্রয়োজন ছাড়াও দেখা গেছে। ❛রাত কাটানো❜ কে এক জায়গায় ❛তাঁর কাটানো❜ লিখেছেন।

তবে সব মিলে বইটা থ্রিলার থেকে কোন অংশে কম নয় এবং বিশ্বাসের প্রাচীর কে লন্ডভন্ড করে দিতে সক্ষম।

লেখার সাথে লেখক কিছু ভিডিও লিংক দিয়েছেন। আমি পড়ার সাথে সাথেই সে লিংকগুলোতে গিয়ে (গুগল লেন্সে ধরলে লিংক অনায়সে কপি করে দেখতে পারেন) প্রমাণের ভিডিওগুলো দেখছিলাম। তবে ২০১৩ সালের রাজস্থান রয়্যালস আর মুম্বাই এর ম্যাচে শ্রীশান্থের করা সেই পাতানো ওভারের ভিডিও আমি অনেকভাবে কমান্ড দিয়ে খুঁজেছি। পাইনি। লেখক যদি আমার রিভিউ দেখে থাকেন আর ভিডিওটা আপনার কাছে থাকলে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো।

শুনেছি খুব শীঘ্রই নাকি এই বইয়ের পরের কিস্তি আসবে। এবং বাংলাদেশী সংস্করণ করার সম্ভাবনা খুব একটা নেই। পরের কিস্তি জানার জন্য অবশ্যই ভারত থেকে বইটা আনাতে হবে। তবে এদেশে যেহেতু প্রথম কিস্তি প্রকাশ পেয়েছে সেক্ষেত্রে পরেরটা প্রকাশ করতে সমস্যা কোথায় ঠিক জানি না।

ছোটোকাল থেকে আমি ❛শহীদ আফ্রিদি❜ এর অনেক ভক্ত। বইতে বুকিদের পার্টিতে বলা ❛ওহি নেহি আয়া পাকড় পে❜ লাইনটায় যথেষ্ট প্রশান্তি পেয়েছি।