রান্না হবে সূর্যের আলোয়!



সম্প্রতি এক প্রকৌশলী সৌরচুলা আবিষ্কার করেছেন।
সূর্যের আলো ব্যবহার করে রান্না হবে। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া জ্বালানির ব্যবহারও নেই। চুলার পাশেও বসে থাকতে হবে না। ধোঁয়ার ভয়ও নেই। চাইলে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো জায়গায় যেতে পারেন।

প্রকৌশলী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেছেন। সৌরচুলা ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি তিনি একটি স্লোগানও ঠিক করেছেন। স্লোগানটি হলো ‘সৌরচুলা ব্যবহার করুন, খরচ কমান, পরিবেশ বাঁচান’।

সৌরচুলার জ্বালানি হল সূর্যের আলো। যার কারণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনের কোনো ভয় নেই। তাই পরিবেশে ক্ষতি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

আবিষ্কারক সাংবাদিকদের জানান, ‘তাঁর উদ্ভাবিত চুলাটি সূর্যের আলোতে রাখতে হবে। চুলার রিফ্লেক্টর খুলে সূর্যের আলোর দিকে রাখলে চুলায় থাকা টিউবের ওপর সুর্যের আলো সরাসরি পড়বে। আর সূর্যের আলোর উল্টোদিকে কিছুটা উঁচু করে রিফ্লেক্টরটি রাখলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রান্নার কাজ করতে শুরু করবে। সেই সঙ্গে রিফ্লেক্টরের মাঝখানে থাকা টিউবটি আটকে রাখতে হবে যত্নসহকারে। চুলার মাঝখানে রাখা পাত্রে খাবার উপকরণ দিয়ে দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রান্না হয়ে যাবে। তিনি আরো জানান, রান্না হওয়ার জন্য খাবারের পরিমাণ অনুযায়ী এক-দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে না। এ সৌরচুলা তৈরি করতে খরচ হবে ১৪-১৫ হাজার টাকা। অবশ্য নিশ্চিতভাবে চুলাটি ১০ বছর পর্যন্ত টেকসই থাকবে।’

তিনি আরো জানান, ‘চুলাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে করে আকাশ মেঘলা থাকলেও রান্না করা যাবে। চুলার ট্রেতে খাদ্য উপকরণ সাজিয়ে এক ঘণ্টা পর বৈদ্যুতিক লাইনে সংযোগ দিলে ভেতরে থাকা অটোমেটিক চুলা বন্ধ হয়ে যাবে। সেখানে কাজ করবে বৈদ্যুতিক হিটারটি। বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে এ চুলায় রান্না করতে প্রতিবার খরচ হবে প্রায় ৩০০ ওয়াট বা আধা ইউনিট বিদ্যুৎ। যার মূল্য তিন টাকার বেশি নয়।’

প্রকৌশলী তাড়াশের সগুনা ইউনিয়নের সান্দুরিয়া মরিয়ম খানম কওমিয়া-হাফিজিয়া মাদরাসায় দুটি সৌর চুলা দিয়েছেন। মাদরাসার শিক্ষক জানান, ‘মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য সৌর চুলায় ভাত, মাছ, মাংস সবই রান্না করা হচ্ছে ছয় মাস যাবৎ। জ্বালানি খরচ না হওয়ায় তাঁরা উপকৃত হচ্ছেন।’

সৌরচুলার উদ্ভাবক প্রকৌশলী সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাঁস ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের ছেলে। ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত অরবিট সোলার এনার্জি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার তিনি।

তিনি জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠিত অরবিট সোলার এনার্জি কাজ করছে সাশ্রয়ী সৌরচুলাটি ব্যাপকভাবে ব্যবহারের জন্য।