রাবিতে মানববন্ধন ধর্ষকের আজীবন বহিষ্কার দাবি শিক্ষার্থীদের



ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষণকারীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারসহ ছয় দফা দাবিতে আজ বুধবার দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষার্থী যখন ধর্ষণের মতো অপরাধ করে তখন তাদের কাছ থেকে সমাজের শেখার মত আর কিছু থাকে না।

উপস্থিত বক্তারা আর বলেন, আমরা এখনও সভ্য হতে পারিনি। দেশ এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যতে পরিণত হয়েছে। তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন কোন ঘটনা ঘটলে আমরা বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করতে হবে কেন। দেশের আইন-বিচার ব্যবস্থার
দায়িত্বে যারা আছেন তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে অপরাধের সংখ্যা কমে যাবে। আপনারা নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। এসময় মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

এসময় শিক্ষার্থীরা ওই ধর্ষকের শাস্তি ছাড়াও তাদের ছয় দফা দাবিগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরে।
তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো হচ্ছে,  যৌন নিপীড়ন সেলের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে হবে, প্রশাসনকে শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে করে অপরাধী আইনের ফাঁক গলিয়ে বের না হতে পারে।
ক্যাম্পাসে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এছাড়া বহিরাগতদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও ক্যাম্পাসে মোটরসাইকেলের সব্বোর্চ স্পিড লিমিট ২০ কি.মি. বাধ্যতামূলক করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, শারুদ তার বান্ধবীকে ২৪ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে গল্প করার কথা বলে কাজলা সাঁকপাড়া এলাকায় তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। এসময় সে ওই ছাত্রীকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
পূর্বপরিকল্পিতভাবে কৌশলে শারুদের বন্ধু বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যায়ের ছাত্র প্লাবন সরকার, রাফসান কাজলা এলাকার জয়, জীবন ও বিশাল মোবাইলে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে।
এরপর ওই ছাত্রীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে তারা। টাকা না দিলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে গভীর রাতে তাকে ছেড়ে দেয় শারুদ। পুরো ঘটনাটি পরিবারের কাছে জানালে ২৭ জানুয়ারি ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন।