রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে যৌথভাবে চাপ দেবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র



মিয়ানমারের রাখাইন থেকে দেশটির সেনাবাহিনীর নিপীড়নে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কারণে সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগেএক সঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট ও ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রচারিত এক যৌথ বিবৃতিতে একথা বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশকে উৎসাহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চার লাখের মতো মানুষ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। এর মধ্যে গতবছর ২৫ অগাস্ট রাখাইনে নতুন করে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসেছে আরও সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা।

এর আগে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক ও রাজনীতিবিষয়ক মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি ডেভিড হেইলের যৌথ সভাপতিত্বে দুই দেশের মধ্যে অংশীদারত্ব সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধি দল মত প্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেছে। বাংলাদেশ আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপের বিষয়ে শেখ হাসিনার ঘোষণা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং মানব পাচার রোধের প্রয়াস জোরালো করতে বাংলাদেশকে উৎসাহিত করছে যুক্তরাষ্ট্র। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু ধারা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ জানিয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের জন্য এর মূল উৎসে যাওয়ার পাশাপাশি স্বেচ্ছা, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি যে মিয়ানমারের জন্য জরুরি, তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দুই দেশ। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাড়তি তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংগঠিত করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং সংকটের সমাধানে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ দিতে দুই দেশ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ চালিয়ে নিতে একমত হয়েছে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা বিকাশ অব্যাহত রাখবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মান ও চর্চার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রম অধিকার ও কর্ম পরিবেশের নিরাপত্তায় অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া একটি অবাধ, উন্মুক্ত, অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন স্বপ্ন এগিয়ে নিতে দুই দেশ নিবিড় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে রাজি হয়েছে।