সিলেটের শিবানন্দই কি তবে সবচেয়ে প্রবীণ, বয়স ১২৩


Shami Sibanondo

১৯০১ সালে স্বামী শিবানন্দ ভারতের নবদ্বীপে স্থায়ীভাবে চলে যান।দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি।পাসপোর্ট অনুযায়ী তার বয়স এখন ১২৩ বছর।

স্বামী শিবানন্দের জন্ম হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার হরিপুর গ্রামে। সম্প্রতি জন্মস্থান সিলেট সফরে এসেছেন তিনি।

সিলেটের বিভিন্ন মন্দিরসহ নানা স্থান ভ্রমণের পাশাপাশি মঙ্গলবার শ্রীচৈতন্য গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় যোগ দেন তিনি। সেখানেই তার কথা হয় সাংবাদিকদের সঙ্গে।

সভার আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মনোজবিকাশ দেবরায় ও শ্রীশ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দর ধামের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ বন্ধুপ্রতিম ব্রহ্মচারীসহ সভার আয়োজকদের দাবি, বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ হওয়া সত্ত্বেও প্রচারবিমুখ শিবানন্দ সব সময় থেকেছেন প্রচারের বাইরে।

বিশ্বের বর্তমানে জীবিত মানুষের মধ্যে বয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড কিংবা অন্য কোনো রেকর্ডে নাম নেই তার।

আয়োজকেরা দাবি জানান যেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ হিসেবে স্বামী শিবানন্দের নাম বিশ্ব রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত হয়।

আয়োজকেরা শিবানন্দের বয়সের প্রমাণ হিসেবে ভারতীয় পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দেখান। যেখানে তাঁর জন্মসাল লেখা রয়েছে ১৮৯৬ সালের ৮ আগস্ট। 

কর্মজীবন ভারতে হলেও তাঁর জন্ম বৃহত্তর সিলেটেই। শিক্ষাজীবনে কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করে লন্ডন থেকে গ্র্যাজুয়েশন ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

স্বামী শিবানন্দ জানান,নিয়মিত খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন। প্রতিদিনই যোগব্যায়াম করেন। ভাত, রুটি আর সেদ্ধ সবজি খান। তেল, চর্বি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার, ফল-দুধ খান না।

তিনি বলেন, ‘এ কারণে তার মধ্যে কোনো রোগ নেই, কামনা-বাসনা নেই, দুঃখ-চিন্তা-সমস্যা নেই।’

স্বামী শিবানন্দ বলেন, ‘আমাদের আয়ু অনেক কম, কিন্তু বাসনা অনেক বেশি। এ জন্যই আমাদের মধ্যে এত অশান্তি। ‘সৎভাবনা, সৎকর্ম ও সৎচিন্তা থাকলে বিশ্বে হানাহানি আর সংঘাতের ঘটনা ঘটবে না; প্রতিষ্ঠা হবে শান্তি।’