সুস্থ-সুন্দর চুলের রহস্য



ঝলমলে রেশমি কালো চুল মানেই সুস্থ সুন্দর চুলের প্রতীক, সময়ের সাথে সাথে এ ধারণা বদলেছে। সচেতন নারীরা এখন কৃত্রিম উপায়ে চুল সোজা করার বিপক্ষে।

তাই ঢেউ খেলানো চুলের অধিকারীরা এখন চুলের স্বাভাবিকত্ব বজায় রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

সুস্থ সুন্দর চুলের জন্য যত্নের প্রয়োজন। কীভাবে চুলের যত্ন নিবেন জেনে নিন—

চুলের যত্নে কোমল শ্যাম্পু:

চুলকে সুস্থ সুন্দর রাখতে প্রথমেই চুল পরিষ্কার রাখা জরুরী। আপনি যদি রোজই বাইরে যান, তাহলে রোজই চুল শ্যাম্পু করতে হবে। সেক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যেহেতু রোজ শ্যাম্পু করলে চুলের স্বাভাবিক তৈলাক্তভাব কমে যায়, তাই শ্যাম্পুর আগে হাতে সময় নিয়ে চুলে তেল ম্যাসাজ করুন।

নারকেল তেল বা জলপাই তেল একটু গরম করে চুলের গোড়ায় লাগান। ৫ মিনিট ম্যাসাজ করে রাখুন আধঘণ্টা। এবার কোমল শ্যাম্পু দিয়ে চুল ও স্কাল্প পরিষ্কার করে ফেলুন। এতে করে ইনফেকশন ও খুশকির কারণে চুল ভেঙে যাওয়া ও পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে।

সঠিক খাদ্যাভ্যাস:

চুলে উস্কখুস্ক ভাব থাকা নতুন কিছু নয়। বলা হয় এ ধরনের চুলে পুষ্টি ধীরগতিতে পৌঁছে। তাই শরীরে যদি ভিটামিনের ঘাটতি থাকে, তাহলে চুল ক্ষতিগ্রস্ত পারে। ভিটামিন এ মাথার ত্বকে সিবাম উত্পন্ন হতে সাহায্য করে। ভিটামিন ই স্কাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের গ্রন্থিকোষকে উৎপাদনশীল রাখে।

অন্যদিকে ভিটামিন বি চুলের স্বাস্থ্যকর রঙ ধরে রাখতে সহায়তা করে। তাছাড়া খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিনের ব্যবস্থা রাখা জরুরি।

চুলের সুস্থতার জন্য পানি:

চুলের গোড়ার এক-চতুর্থাংশই পানি। তাই দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি রসালো ফল ও সবজি খেতে হবে। তাছাড়া চুল ধোয়ার জন্য নারকেলের পানি, চায়ের লিকার, ভিনিগার, লেবুর রস, পেঁয়াজের রস ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।

চুল যদি পড়তে শুরু করে, তাহলে পেঁয়াজ অথবা আদার রস মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করে পরদিন সকালে শ্যাম্পু করে ফেলুন। টানা এক সপ্তাহ এ পদ্ধতি মেনে চললে শিগগিরই ফল পাবেন।

তাছাড়া স্কাল্পে গ্রিন টি ম্যাসাজ চুল পড়ার সমস্যা সমাধান করে। এর জন্য এক কাপ গরম পানিতে দুটি গ্রিন টি ব্যাগ দিয়ে রেখে দিন। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে তা স্কাল্প ও চুলে ম্যাসাজ করুন। ১ ঘণ্টা পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ভেজা অবস্থায় চুল আঁচড়ানো নিষেধ:

কোঁকড়া চুল শ্যাম্পু করার পর এমনিতেই জটা পড়ে যায়। তাই চুল তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে মুছে ফ্যানের বাতাসেই শুকিয়ে নিন। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার না করাই ভালো।

চুল সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থায় থাকে যখন তা ভেজা থাকে। তাই ভেজা চুল আঁচড়ানো যাবে না। এতে চুল পড়ার হার বেড়ে যায়। তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চুল মুছে আঙুল অথবা মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল সেট করে নিন।

চুলকে সুস্থ সুন্দর রাখতে আমাদের এই কয়েকটি জিনিস মাথায় রাখতে হবে। একটু নিয়ম মানলেই আমরা আমাদের চুল সুন্দর রাখতে পারবো।