স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে মামলায় অ্যাপলের জয়



অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পেটেন্ট-বিষয়ক আইনি লড়াই চলছে। কার্যকর সুরাহা না হওয়ায় গত সপ্তাহে পুরনো এ মামলা নিয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয় বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারের শীর্ষ দুই প্রতিদ্বন্দ্বী।
সাত বছর আগে আইফোনের নকশা নকলের অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায়ে গত বৃহস্পতিবার স্যামসাংকে দোষী সাব্যস্ত করেন ফেডারেল আদালতের বিচারক। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ হিসেবে অ্যাপলকে ৫৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়।
পেটেন্ট মামলার রায়ে আইফোনের নকশা নকলের অভিযোগে ৫৩ কোটি ৩৩ লাখ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইফোনের জন্য পেটেন্ট করা এক জোড়া ফাংশন নিজেদের হ্যান্ডসেটে ব্যবহার করায় আরো ৫৭ লাখ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেন আদালত। অর্ধযুগের বেশি সময় ধরে চলা এ মামলার রায়কে অ্যাপল বড় ধরনের জয় মনে করছে। কারণ প্রতিষ্ঠানটি বরাবরই আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে এসেছে যে, ইউনিক নকশা আইফোন ডিভাইসের সাফল্যের অন্যতম হাতিয়ার।
২০১১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে পেটেন্ট লঙ্ঘনের মামলা করেছিল মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। ওই মামলায় স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে আইফোন ডিভাইসের পাঁচটি পেটেন্ট, নকশা ও ট্রেডমার্ক নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়।
২০১২ সালের এক রায়ে আদালত ক্ষতিপূরণ হিসেবে অ্যাপলকে ১০৫ কোটি ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেন স্যামসাংকে। ওই রায়ের পর ক্ষতিপূরণের অংক কমাতে আপিল করে স্যামসাং। পরবর্তীতে আপিলের রায়ে বিচারক লুসি কোহ ক্ষতিপূরণের অংক কমিয়ে নির্ধারণ করেন। তার পরও নিষ্পত্তি হয়নি মামলাটির। পুনরায় নির্ধারিত জরিমানার অংক কীভাবে গণনা করা হয়েছে, তা নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। জরিমানার অর্থ কমানো বিষয়ে অ্যাপলের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত রুল জারি করলে তা নিয়ে আবারো একটি শুনানির প্রয়োজন দেখা দেয়।
বিবৃতিতে অ্যাপল জানায়, আমরা দীর্ঘদিন ধরে চলা এ মামলার রায়ে অত্যন্ত খুশি। কারণ আমরা বিচারকদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাং অ্যাপল পণ্যের নকশা, পেটেন্ট করা ফাংশন নকল করেছে। এ মামলার ক্ষেত্রে অর্থ কখনো মুখ্য বিষয় ছিল না। মামলার রায় তাদের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেয়ে বেশি কিছু। অ্যাপল শুরু থেকেই উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। সৃজনশীল উদ্ভাবনের কারণে একমাত্র স্মার্টফোন ব্র্যান্ড আইফোন দিয়ে বাজারে আধিপত্য ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছি। গ্রাহক চাহিদা অনুযায়ী, পণ্যের নকশা এবং প্রয়োজনীয় ফিচার ও ফাংশন উন্নয়নে অ্যাপলের একদল পরিশ্রমী কর্মী নিরন্তর কাজ করছেন। অ্যাপল পণ্যের নকশা, ফিচার এবং এর পেছনের মানুষগুলোর সৃজনশীলতার মূল্যায়নে পেটেন্ট মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
স্যামসাং পেটেন্ট লঙ্ঘনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার পরিশোধে আগ্রহী। সপক্ষে উপস্থাপিত যুক্তিতর্কে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, একটি নকশা পেটেন্ট বা পেটেন্ট করা ফাংশন নকল হওয়ার কারণে কোনো একটি পণ্য বিক্রি থেকে মুনাফার পুরো অর্থ জরিমানা করা যেতে পারে না। মোবাইল ডিভাইস, বিশেষ করে স্মার্টফোনে বিভিন্ন ধরনের অনুষঙ্গ থাকে। বিশেষ কোনো একটি অনুষঙ্গের ক্ষেত্রে পেটেন্ট লঙ্ঘন হলে জরিমানার অর্থ ওই অনুষঙ্গ থেকে মুনাফার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা যেতে পারে। কিন্তু সে অনুষঙ্গ যে পণ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, সে পণ্য বিক্রি থেকে মুনাফার ওপর ভিত্তি করে জরিমানা করা ঠিক নয়। এর আগে স্যামসাংয়ের এমন দাবির মুখে উচ্চ আদালতের বিচারক চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না করেই মামলাটি ক্যালিফোর্নিয়ার একটি নিম্ন আদালতে স্থানান্তর করেন। অন্যদিকে অ্যাপল যে বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দাবি করে, তা একটি আইফোন মডেল থেকে আয়ের ওপর ভিত্তি করে গণনা করা হয়।