২০১৮ সালে হত্যার শিকার ৪১৮টি শিশু



দেশে সামগ্রিকভাবে শিশুহত্যা বেড়েছে। ২০১৮ সালে হত্যার শিকার হয়েছে ৪১৮টি শিশু। এর আগে ২০১৭ সালে ছিল এ সংখ্যা ছিল ৩৩৯টি। অর্থাৎ শিশুহত্যা বেড়েছে ২৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।

এছাড়া দেশে কিশোর-কিশোরী ও শিশুদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। ২০১৮ সালে ২৯৮টি শিশু আত্মহত্যা করেছে। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ২১৩। শিশুদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৯১ শতাংশ।

আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘শিশু অধিকার পরিস্থিতি ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ)।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যার শিকার ৪১৮টি শিশুর মধ্যে ৮১টি শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর নিহত অবস্থায় পাওয়া গেছে, ৫৩টি শিশু বাবা-মায়ের হাতে খুন হয়েছে, ৩১টি শিশুকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে এবং ৬টি শিশুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে ৬২৭ শিশু এবং পানিতে ডুবে মারা গেছে ৬০৬টি শিশু।

শিশু পরিস্থিতির এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন বিএসএএফের পরিচালক আবদুস শহীদ মাহমুদ। তিনি বলেন, শিশুদের প্রতি সহিংসতায় বিচারহীনতা এবং বিচারের দীর্ঘসূত্রতা অব্যাহত আছে। সমাজে শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আইন করে তা করা সম্ভব নয়। আবার একা সরকারের পক্ষেও তা সম্ভব নয়। সরকারসহ প্রত্যেকের জায়গা থেকেই ভূমিকা রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসএএফের চেয়ারপারসন খাজা শামসুল হুদা।

অনুষ্ঠানে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘শিশু অধিকার রক্ষায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। শিশুর অধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে এবং বলতে হবে।’ শিশুদের অধিকার রক্ষায় একটি অধিদপ্তর গঠন করার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।