মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ঢল থামছেই না। গতকাল শনিবার নতুন করে আরও ১০৭ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক গতকাল এ তথ্য জানান।
রাখাইন রাজ্যে থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠাতে গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমার-বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যাবাসন চুক্তি সই হয়। এর পর ৮০ দিনে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সাগর পাড়ি দিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে ১০ হাজার ১৩৯ জন রোহিঙ্গা। গতকাল সকাল পর্যন্ত টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ২৮ পরিবারের ১০৭ জন রোহিঙ্গা নতুন করে এসেছে।
সেনাবাহিনীর টেকনাফের সাবরাং হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রে দায়িত্বরত জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ও টেকনাফ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আজ সকাল পর্যন্ত নতুন করে এসেছে ২৮টি পরিবারের ১০৭ জন রোহিঙ্গা। তাদের প্রথমে সেনাবাহিনীর হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রে নেওয়া হয়। এরপর তাদের টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে পাঠানো হয়। নাফ নদীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থায় থাকায় রোহিঙ্গারা এখন সাগর পাড়ি দিয়ে টেকনাফে আসছে। কোনোভাবে রোহিঙ্গা আসা বন্ধ করা যাচ্ছে না।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ লাখ ৬২ হাজার ৫৮২ জন রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। বহিরাগমন বিভাগ ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু নোমান মোহাম্মদ জাকির হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বহিরাগমন বিভাগ ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার ও জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কর্মীরা রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের কাজ করছেন। উখিয়া ও টেকনাফে ১২টি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের বর্তমানে চারটি ক্যাম্পের মাধ্যমে নিবন্ধনপ্রক্রিয়ার কাজ চলছে। গত এক সপ্তাহে দুটি ক্যাম্পের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে আরও একটি ক্যাম্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে
গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধনের কাজ শুরু করা হয়। এ পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মিলে ১০ লাখ ৬২ হাজার ৫৮২ জন রোহিঙ্গাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইনে গত ২৫ আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর থেকে রোহিঙ্গারা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আসছে। টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার ৪ হাজার ৩০০ একর পাহাড় ও পাহাড়ি এলায় তাদের বসতি গড়ে উঠেছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গার সংখ্যা ৬ লাখ ৫৫ হাজার। আর নতুন-পুরোনো মিলিয়ে এখন শুধু কক্সবাজারেই আছে ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা।
আরও পড়ুন; রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে সাধ্যমত চেষ্টা করবে তুরস্ক
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহযোগিতা করবে চীন
রোহিঙ্গা সংকট: সু চির সঙ্গে ট্রুডোর বৈঠক
রোহিঙ্গা সংকট: বছরে লাগবে সাত হাজার কোটি টাকা
রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চারটি শর্ত দিয়েছে মিয়ানমার
সোমবার থেকে ফের রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা শুরু
রোহিঙ্গা সংকট: মিয়ানমারে ফিরতে চায় ৭৮% রোহিঙ্গা
রোহিঙ্গা সংকট: হত্যা করা হয়েছে ৬,৭০০ রোহিঙ্গাকে
