খালেদা জিয়া রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক অপরাধী



জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। সরকারি এতিম তহবিলের টাকা এতিমদের কল্যাণে ব্যয় না করে পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করে খালেদা জিয়াসহ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আসামিরা রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক অপরাধ করেছেন বলে আদালতের রায়ে বলা হয়েছে।
রায় ঘোষণার ১১ দিন পর সোমবার বিকাল ৪টার দিকে হাজারের বেশি পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন বিচারক। এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের হাতে রায়ের সত্যায়িত কপি তুলে দেন আদালতের পেশকার মোকাররম হোসেন। পরে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের হাতেও রায়ের কপি তুলে দেওয়া হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, “এ ঘটনায় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ মামলার ছয়জন আসামির প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে লাভবান হয়েছেন। তারা রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক অপরাধী হিসেবে গণ্য হবেন।”
অর্থনৈতিক দুর্নীতি রাষ্ট্রের অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করে এবং এর বাজে প্রভাব সমাজের প্রতিটি স্তরে সংক্রমিত হয় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
এতিমদের জন্য বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের এই মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত।
মামলার বাকি পাঁচ আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে আসা ১২ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলারের ডিডি খালেদা জিয়া গ্রহণ করেন। ফলে ওই টাকা তাঁর মালিকানায় আসে। এরপর ওই টাকা সোনালী ব্যাংকের ৫৪১৬ নম্বর হিসাবে রাখা হয়। আরও পরে ওই টাকা স্থায়ী আমানত করে রাখার ফলে টাকার ওপর তাঁর স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই টাকা যখন দুই ভাগ করা হয় তখন তাঁর সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীর মাধ্যমে বেসরকারি দুটি ট্রাস্টের অনুকূলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তিনি ফৌজদারি অপরাধে জড়িয়ে পড়েন (ক্রিমিনাল মিস-অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন অব প্রোপার্টি)। কেননা, সরকারি এতিম তহবিলের টাকা দেশে প্রতিষ্ঠিত এতিমখানায় বিধিমোতাবেক ব্যয় করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি তা না করে সেই অর্থ নামসর্বস্ব জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অনুকূলে স্থানান্তর করেন। আজ অবধি ওই নামে কোনো ট্রাস্টের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ট্রাস্টের ঠিকানা ৬, শহীদ মইনুল রোড, ঢাকা সেনানিবাস কিংবা বগুড়ার গাবতলী উপজেলার দাড়াইল মৌজায় ট্রাস্টের অস্তিত্ব নেই। ১৯৯৩ সালে ১৭টি দলিলের মাধ্যমে কেনা ২ একর ৭৯ শতাংশ জমি আজ অবধি ধানি জমি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে আইন লঙ্ঘন হয়েছে। সে কারণে তিনি দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। কেননা, খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় তিনি স্বীকৃতমতেই সরকারি কর্মচারী।
উল্লেখ্য, ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। এর ১১ দিন পর গতকাল আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রায়ের প্রত্যয়িত অনুলিপি পেলেন। রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। তারেক রহমানসহ পাঁচজনকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা জরিমানার আদেশও দেন আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন;
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা    
জনসভামঞ্চে উঠেছেন খালেদা জিয়া   
খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন খারিজ     
রোহিঙ্গাদের তাদের স্বদেশে ফেরাতে হবে: খালেদা জিয়া