প্রত্যাবর্তনের আশায় ব্ল্যাকবেরি



প্রিমিয়াম হ্যান্ডসেট বাজারের কমপক্ষে ৩ শতাংশ দখলে নিতে চায় ব্ল্যাকবেরি মোবাইল। ডিভাইস বাজারে প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহীদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাও লক্ষ্যণীয়। কিন্তু বাস্তবেই কি একসময়ের জনপ্রিয় এ হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ডের প্রত্যাবর্তন খুব বেশি চমক সৃষ্টি করতে পারবে? বিশ্লেষকরা বিষয়টি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ব্ল্যাকবেরি মোবাইল এখন চীনভিত্তিক কনজিউমার ইলেকট্রনিকস নির্মাতা টিসিএলের একটি বিভাগ। কানাডাভিত্তিক ব্ল্যাকবেরি লিমিটেডের কাছ থেকে ব্ল্যাকবেরি ব্র্যান্ডের ফোন তৈরির লাইসেন্স পেয়েছে টিসিএল। পাশাপাশি অ্যালকাটেল ব্র্যান্ডের বাজেট ফোন তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি। মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস (এমডব্লিউসি) ২০১৭তে চালু হওয়ার পর বিভাগটির আওতায় ব্ল্যাকবেরি ব্র্যান্ডকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্টরা।
টিসিএল ও ব্ল্যাকবেরি সমন্বিতভাবে কার্যক্রম শুরুর এক বছর পেরিয়ে গেছে। ব্ল্যাকবেরি মোবাইলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিসিও) ফ্রাঁসোয় মাইয়ু আগামীতে ব্ল্যাকবেরি ব্র্যান্ড কোন পর্যন্ত যেতে পারে, সে বিষয়ে কিছু উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। এমডব্লিউসি ২০১৮কে সামনে রেখে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বৈশ্বিক প্রিমিয়াম স্মার্টফোন বাজারের ৩-৫ শতাংশ দখলে নিতে কাজ করছে ব্ল্যাকবেরি মোবাইল।
ফ্রাঁসোয়া মাইয়ু বলেন, প্রিমিয়াম স্মার্টফোনই ডিভাইস বাজারে ব্যবসা জোরদারের জন্য যথেষ্ট নয়। কাজেই শুধু প্রিমিয়াম হ্যান্ডসেট বাজারের দখল বৃদ্ধি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকব না। সামগ্রিক স্মার্টফোন বাজারের মাত্র ১ শতাংশ দখল করে আছে প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির হ্যান্ডসেট।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের বিশ্লেষক নীল শাহ বলেন, গত বছর চতুর্থ প্রান্তিকে মাত্র ১ লাখ ৭০ হাজার ফোন বিক্রি করেছে ব্ল্যাকবেরি। কিন্তু গত বছরজুড়ে প্রিমিয়াম হ্যান্ডসেটের বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ইউনিটে। সাধারণত ৪০০ ডলার মূল্যের বেশি দামের হ্যান্ডসেটকে প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির বিবেচনা করা হয়। লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে ব্ল্যাকবেরি মোবাইলকে বছরে অন্তত ১ কোটি ইউনিট বা প্রতি প্রান্তিকে ২০-৩০ লাখ ইউনিট হ্যান্ডসেট বিক্রি করতে হবে।
তিনি বলেন, বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতি এবং ব্ল্যাকবেরির ডিভাইস বিক্রির সংখ্যার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। এক্ষেত্রে আগামী কয়েক বছরে প্রিমিয়াম হ্যান্ডসেট বাজারের যে ৩-৫ শতাংশ দখলে নেয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছেন এর নির্বাহীরা, তা অর্জন করা বেশ কঠিন হবে।
ব্ল্যাকবেরি লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণে ব্ল্যাকবেরি হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ডের অবস্থা মূমুর্ষু অবস্থায় পৌঁছেছিল। টিসিএলের সঙ্গে চুক্তিতে যাওয়ার পর ব্ল্যাকবেরি ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেটের প্রত্যাবর্তন নিয়ে নতুন করে ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্ল্যাকবেরি লিমিটেড এখন হার্ডওয়্যারের পরিবর্তে সফটওয়্যার এবং সার্ভিস ব্যবসাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৈশ্বিক ডিভাইস বাজারে অন্যতম দুটি লিগ্যাসি ফোন ব্র্যান্ড এখন ব্ল্যাকবেরি ও নকিয়া। অর্থাৎ সরাসরি ডিভাইস ব্যবসায় জড়িত না থাকলেও দুই প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ও ব্র্যান্ড নাম ব্যবহার করে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান ডিভাইস উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। ২০১৭ সালের শুরুতেই নকিয়া ব্র্যান্ডের প্রথম অ্যান্ড্রয়েড চালিত স্মার্টফোন বাজারে আসে।
ফিনল্যান্ডভিত্তিক স্টার্টআপ এইচএমডি গ্লোবাল স্মার্টফোন বাজারে নকিয়া ব্র্যান্ড ফিরিয়ে এনেছে।
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্যমতে, ডিভাইস বাজারে প্রত্যাবর্তনের প্রথম প্রান্তিকেই নকিয়া ব্র্যান্ড দিয়ে এইচএমডি গ্লোবাল ফিচার ফোন বাজারের তৃতীয় স্থান দখলে নিয়েছে। বিশ্ববাজারে গ্রাহকরা নকিয়া ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনকে সাদরে গ্রহণ করেছে, যা দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করেছে।
নীল শাহ বলেন, ডিভাইস বাজারে নকিয়ার প্রত্যাবর্তনকে অনুসরণ করতে চাইলে প্রিমিয়াম হ্যান্ডসেটের বাজার যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, কোরিয়া এবং পশ্চিম ইউরোপে উপস্থিতি বাড়াতে হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এটিঅ্যান্ডটি এবং স্প্রিন্টের সঙ্গে চুক্তি থাকলেও ভেরাইজন এবং টি-মোবাইলের সঙ্গে ব্ল্যাকবেরি মোবাইলের কোনো চুক্তি নেই।