চলতি বছরের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় মিলে মোট ১৩ লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য ৯৪ কোটি ডলার অর্থায়নের চাহিদা প্রাক্কলন করা হয়েছে জাতিসংঘের জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানে।
জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের খসড়া থেকে জানা যায়, ১২টি খাতে ভাগ করে অর্থায়নের প্রাক্কলন করেছে জাতিসংঘ। উখিয়া ও টেকনাফ এলাকার স্থানীয় ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মোট ১২ লাখ ৯৪ হাজার ৫২০ জনের মধ্যে ১২ লাখ ৮ হাজার ৫৯০ জনকে খাদ্য নিরাপত্তার আওতায় আনা হবে। এজন্য প্রয়োজন পড়বে ২৬ কোটি ডলার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরো এলাকার সবার কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া হবে। এজন্য স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজন হবে ১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এখানে থাকা জনগোষ্ঠীর ৯ লাখ ৮ হাজার ৯৭৯ জনের আশ্রয়কেন্দ্রের প্রয়োজন থাকলেও ৮ লাখ ১৩ হাজার ২৮৯ জনকে আশ্রয়কেন্দ্র সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে জাতিসংঘের পরিকল্পনায়। আর এজন্য প্রয়োজন হবে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
রোহিঙ্গাদের জন্য ইউএনএইচসিআরের ডব্লিউএএসএইচ (ওয়াশ) প্রকল্পে ১০ লাখ ৫২ হাজার ৪৯৫ জনের জন্য প্রয়োজন হবে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার। এছাড়া নিরাপত্তা এবং এ-সংক্রান্ত সংকট মোকাবেলার জন্য ৭ কোটি ৩৫ লাখ, সাইট ব্যবস্থাপনার জন্য ১২ কোটি ৫০ লাখ, শিক্ষার জন্য ৪ কোটি ৬৫ লাখ, পুষ্টির জন্য ৩ কোটি ৮০ লাখ, কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ৫৮ লাখ, সমন্বয়ের জন্য ৫০ লাখ, সরবরাহের জন্য ২০ লাখ এবং অন্যান্য খরচের জন্য ১২ লাখ ১ হাজার ১১৫ ডলারের চাহিদা প্রাক্কলন করা হয়েছে খসড়া এ পরিকল্পনায়।
জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানে রোহিঙ্গা সংকটকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধমান শরণার্থী সংকট হিসেবে। এতে বলা হয়েছে, ২৫ আগস্ট ২০১৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে ৬ লাখ ৮৮ হাজার শরণার্থী। এ বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় দুই হাজার একর জমির ওপর থাকার জায়গা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এটাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির। এতে করে সেখানকার অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও পানি সরবরাহ, পরিবেশ, বিশেষ করে বনসম্পদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। পালিয়ে আসা ৫ লাখ ৮৫ হাজার রোহিঙ্গা সেখানে বসবাস করছে।
কক্সবাজারের উখিয়া ও কুতুপালং এলাকায় সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে জানিয়ে খসড়া পরিকল্পনায় বলা হয়, গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা ওই এলাকায় ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করেছে। পর্যাপ্ত খাদ্য নিরাপত্তা, আশ্রয়স্থল, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, রোহিঙ্গা এলাকা ব্যবস্থাপনা, বিশুদ্ধ পানি, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধির ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় সেখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গারা অথবা রোহিঙ্গাদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা সংঘাতে রূপ নিলে সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
এখনই বিশুদ্ধ পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসেবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না করলে ওই এলাকায় রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে জাতিসংঘের এ খসড়া পরিকল্পনায়। এতে বলা হয়েছে, সীমিত সুবিধার মধ্যে দিন দিন রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিশুদ্ধ পানি, ল্যাট্রিনসহ অন্যান্য অবকাঠামো যতটুকু রয়েছে, তার ওপর ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কলেরাসহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে হাজারের ওপর মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
