এশিয়ার শেয়ারবাজারে পতন



বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর শঙ্কা ও ইতালির রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এশিয়ার বিনিয়োগকারীরা ভীত হয়ে পড়েছেন। এর প্রভাবে সোমবার এ অঞ্চলের সূচকগুলোয় পতন দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, বিনিয়োগকারীরা এখন ইয়েন ও স্বর্ণের মতো নিরাপদ বিনিয়োগে ঝুঁকছেন।
ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্করোপের ঘোষণার পর গত সপ্তাহ থেকে ইকুইটিগুলোয় নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা শুক্রবার ইতিবাচক আভাস নিয়ে লেনদেন শেষ করলেও সামনে পরিস্থিতি নেতিবাচক স্তরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবেই শুল্কারোপ করতে যাচ্ছেন ট্রাম্প, যা বেইজিং থেকে শুরু করে ব্রাসেলসসহ বিশ্বের সব দেশকেই উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
এ অবস্থায় বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কায় জাপান ব্যতীত এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমন্বিত সূচক এমএসসিআই দশমিক ৪ শতাংশ কমে মধ্য ফেব্রুয়ারির পর সবচেয়ে নিচে নেমে আসে। দক্ষিণ কোরিয়ার সমন্বিত সূচক কস্পিতেও ১ শতাংশ পতন লক্ষ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের স্টক ফিউচারগুলোয়ও খুব একটা দৃঢ় আশাবাদের আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। এসঅ্যান্ডপি ই-মিনিস দশমিক ৬ শতাংশ ও ডাও ফিউচারসে দশমিক ৪ শতাংশ পতন দেখা গেছে।
সিডনিভিত্তিক এএমপির প্রধান অর্থনীতিবিদ শেন অলিভার বলেন, ‘ইতালির নির্বাচনের ফলাফল বৈশ্বিক ইকুইটি বাজারের উদ্বেগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ইতালির নির্বাচন এরই মধ্যে নাজুক হয়ে পড়া সরকারের অর্থ ব্যবস্থাকে আরো নাজুক করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
এদিকে ট্রাম্পের শুল্কারোপের ঘোষণার পর বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় এশিয়ার যেসব শেয়ারবাজারে দরপতন দেখা গেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে হংকং। সোমবার হংকংয়ের শেয়ারবাজারে ২ শতাংশের বেশি পতন লক্ষ করা যায়। আর টোকিওর শেয়ারবাজারে পতন হয় দশমিক ৭ শতাংশ। তবে এ সময় সাংহাইয়ের সূচকে দশমিক ১ শতাংশ ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আজীবনের জন্য মনোনীত করার লক্ষ্যে দেশটির আইনসভায় বিশেষ অধিবেশন আয়োজন করা হয়েছে। এ অধিবেশনকে সামনে রেখেই সাংহাই শেয়ারসূচকে এ ভিন্ন পরিস্থিতি দেখা যায়।
এছাড়া সিডনির শেয়ারবাজারে দশমিক ৬ শতাংশ পতন হয়েছে। পাশাপাশি সিউলে ১ দশমিক ১ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে দশমিক ৮ শতাংশ ও ম্যানিলার শেয়ারসূচকে ১ দশমিক ২ শতাংশ পতন হয়। তাইপে, ওয়েলিংটন, জাকার্তা, ব্যাংককের শেয়ারবাজারেও দরপতন হয়েছে।
বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কার কারণে ডলারের ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং বিনিয়োগের নিরাপদ ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ইয়েনের মান আরো বেড়েছে। অবশ্য এক্ষেত্রে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রকাশিত মন্তব্যেরও কিছুটা প্রভাব রয়েছে। ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) সম্প্রতি জানিয়েছে, সংকটকালীন নেয়া প্রণোদনা কর্মসূচি আগামী বছর থেকে তুলে নেয়া শুরু হবে।
তবে শুধু ইয়েন নয়, এশিয়ার আরো অনেক মুদ্রা ডলারের বিপরীতে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রুপির মান দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে ৬৫ দশমিক শূণ্য ৬ রুপিতে পৌঁছেছে। এছাড়া ডলারের বিপরীতে চীনের রেনমেনবি বা ইউয়ান দশমিক ২১ শতাংশ, মালয়েশিয়ার রিঙ্গিত দশমিক ১১, থাইল্যান্ডের বাথ দশমিক শূণ্য ৭, ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়াহর মান দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার ওন দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ফিলিপাইনের পেসোর মান দশমিক ৮ শতাংশ কমে গেছে।